পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দুরেফিশান সেলিমের সাম্প্রতিক নাটক ‘দার-এ-নাজাত’ প্রকাশের পর থেকেই তাঁর ইংরেজি উচ্চারণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। দর্শকদের একটি বড় অংশ সংলাপ বলার ভঙ্গি এবং ইংরেজি শব্দের উচ্চারণ নিয়ে নানা সমালোচনা করছেন। কেউ কেউ তাঁর উচ্চারণকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন যে বলিউডি ইংরেজি শেখার ধরন যেন ফুটে উঠেছে তাঁর সংলাপে। অনেকের মতে, উচ্চারণের চেয়েও সমস্যা হলো সংলাপের গঠন এবং সেগুলো জোর করে বলার চেষ্টা, যা দর্শকদের চোখে বেশি ধরা পড়ছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা এই নাটকে দুরেফিশান ‘জারিয়াব’ নামের এক তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সচ্ছল পরিবারের সন্তান হিসেবে চরিত্রটির যে শিক্ষাগত ও সামাজিক পটভূমি, তার সঙ্গে অভিনেত্রীর ইংরেজি বলার ধরন কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ — সেটিই মূলত দর্শকদের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এদিকে সমালোচনার এই ঢেউকে অতিরিক্ত এবং আক্রমণাত্মক হিসেবে দেখছেন পাকিস্তান বিনোদন জগতের কয়েকজন খ্যাতিমান শিল্পী। অভিনেত্রী সানাম সাঈদ তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, একজন অভিনেতার উচ্চারণ নিয়ে এত ব্যাপক সমালোচনা সত্যিই অস্বস্তিকর ও বিরক্তিকর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রায় প্রতিটি পাতায় দুরেফিশানকে যেভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, সেটিকে তিনি ‘নিষ্ঠুর’ এবং ‘অন্যের অনুভূতির প্রতি চরম উদাসীন’ বলে অভিহিত করেছেন।
অভিনেতা উমর আলমও দুরেফিশানের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, প্রতিটি মানুষের কথা বলার নিজস্ব ধরন থাকে, যা তাকে স্বতন্ত্র করে তোলে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কণ্ঠ শুনতে শুনতে দর্শকদের কাছে স্বাভাবিক উচ্চারণও অদ্ভুত মনে হতে শুরু করেছে। এআই-নির্মিত পরিশীলিত অডিওর সঙ্গে তুলনা করায় বাস্তব মানুষের উচ্চারণই এখন দর্শকদের কাছে কৃত্রিম ঠেকছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাট্যসমালোচক ড. এজাজ ওয়ারিসও দুরেফিশানের সমালোচনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর মতে, পাকিস্তানি উচ্চারণে ইংরেজি বললে সমস্যা, আবার কৃত্রিম উচ্চারণ তৈরির চেষ্টা করলেও সমস্যা — এমন পরিস্থিতিতে অভিনেতাদের সন্তুষ্ট করা দর্শকদের পক্ষে সত্যিই কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবর অবলম্বনে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।




