নরসিংদী জেলার মাধবদী পৌরসভার অন্তত তিনটি সরকারি যানবাহন—দুটি ট্রাক ও একটি অ্যাম্বুলেন্স—নিখোঁজ হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পৌরসভার প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার। শুক্রবার রাতে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয় পৌরসভার ছয়টি সরকারি গাড়ি গ্যারেজে নেই। এরপর কর্তৃপক্ষ খোঁজ শুরু করে। গত ১০ জুলাই শিবপুরের ইটাখোলা এলাকায় একটি গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে জেলা প্রশাসন দুটি ডাম্প ট্রাক ও একটি পে-লোডার উদ্ধার করে। কিন্তু বাকি দুটি ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্সের এখনও কোনো হদিস মেলেনি।

পৌর কর্তৃপক্ষের ধারণা, একটি চক্র এই তিনটি গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছে। তাদের দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় পৌরসভার ওই ছয়টি গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মেরামতের জন্য এগুলো বিভিন্ন গ্যারেজে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সব গাড়ি ফেরত আসেনি। সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি আলোচিত হলে তিনটি গাড়ি উদ্ধার হলেও বাকি তিনটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তৎকালীন পৌর মেয়র মোশাররফ হোসেন পাঁচটি অকেজো গাড়ি মেরামতের জন্য শিবপুরের ইটাখোলা এলাকার গ্যারেজে পাঠিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ওই গ্যারেজের মালিক তাইজুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, মেরামত শেষে দুটি গাড়ি বুঝে নেওয়া হলেও বাকি তিনটি আর নেওয়া হয়নি। মেরামতের বিলও পরিশোধ করা হয়নি। পরে ১০ জুলাই জেলা প্রশাসনের একজন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তিনটি গাড়ি হস্তান্তর করা হয়।

অন্যদিকে, পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামতের জন্য পাঠানো হয়েছিল শেখেরচর এলাকার একটি গ্যারেজে। গ্যারেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, মেরামত শেষে ৫ আগস্টের পর পৌরসভার দুই চালক আল আমিন ও কামাল হোসেন সেটি নিয়ে যান। এরপর অ্যাম্বুলেন্সটির আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টোরকিপার রহিমা বেগম জানান, তাঁকে কখনও গাড়ির নিবন্ধনসংক্রান্ত কোনো নথি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে পৌরসভার কতটি গাড়ি আছে বা নেই, সে বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। তিনি আরও বলেন, গাড়ির দায়িত্ব কার ছিল তা তিনি জানেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার কয়েকজন কর্মচারী অভিযোগ করেন, তিনটি গাড়ি নিখোঁজের ঘটনায় সাবেক মেয়র মোশাররফ হোসেনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দুই চালক কামাল হোসেন ও মোস্তফাসহ কয়েকজন জড়িত। তবে মোস্তফার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কামাল হোসেন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তিনি শাস্তি মেনে নেবেন। তাঁর মতে, তৎকালীন মেয়রের ব্যক্তিগত গাড়িচালক দুলালের মাধ্যমেই গাড়িটি বের করা হয়েছিল। এরপর কী হয়েছে তা তিনি জানেন না।