ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে নবনিযুক্ত অধ্যক্ষের যোগদানকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হলো। মঙ্গলবার দুপুরে কলেজ প্রশাসনিক ভবনে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এ হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নতুন অধ্যক্ষের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন এবং ‘ফ্যাসিবাদের দোসর, স্বাচিপের সক্রিয় সদস্য’ লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেন।

গত সোমবার সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আসিফ-উল আলমকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁকে ১৬ আগস্টের মধ্যে যোগদানের নির্দেশ ছিল। আজ দুপুরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। খবর পেয়ে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুস্তাকীম কবিরের নেতৃত্বে সাত-আটজন নেতাকর্মী অধ্যক্ষের কার্যালয়ে হাজির হয়ে যোগদানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং শিক্ষকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সাবেক অধ্যক্ষ দিলরুবা জেবা দায়িত্ব হস্তান্তর করেন এবং সৈয়দ আসিফ-উল আলম নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। এরপর কলেজের ছাত্রদল কর্মী পরিচয়ে একটি পক্ষ তাঁকে শুভেচ্ছা জানায়, কিন্তু প্রতিবাদকারী ছাত্রদল নেতারা কার্যালয় থেকে বের হয়ে ব্যানার নিয়ে নিয়োগ বাতিলের দাবিতে সরব হন।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুস্তাকীম কবির অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের পতনের দুই বছর পরও দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অধ্যক্ষ পদে বসানো হয়েছে। তিনি বলেন, সৈয়দ আসিফ-উল আলম স্বাচিপের সদস্য এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গত ২৬ জুলাই তাঁকে ড্যাবের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ শাখার আহ্বায়ক করা হলেও দুই দিনের মধ্যেই সেই কমিটি বাতিল করা হয়, যা তাঁর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ বলে তারা মনে করেন। মুস্তাকীম কবির দ্রুত নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসন বন্ধের আহ্বান জানান।

অপরদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ সৈয়দ আসিফ-উল আলম বলেন, তাঁর যোগদান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি এ সুযোগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদকে ধন্যবাদ জানান। কলেজ প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্নে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।