দেশের পার্বত্য অঞ্চল, উপকূলীয় দ্বীপ ও বঙ্গোপসাগরের জেলেরা প্রায়ই মোবাইল নেটওয়ার্কের অভাবে যোগাযোগে সমস্যায় পড়েন। এই ঘাটতি পূরণের জন্য ডাইরেক্ট টু সেল (ডিটুসি) প্রযুক্তি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে বাংলালিংক। মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের স্যাটেলাইটের সহায়তায় এই সেবায় সাধারণ ফোর-জি স্মার্টফোন ব্যবহার করে টাওয়ারের বাইরেও সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গত মে মাসে বাংলালিংককে এই সেবা পরীক্ষার অনুমোদন দেয়। প্রাথমিক পর্যায়ে শুধু খুদে বার্তা (এসএমএস) ও ওটিটি মেসেজিং সেবা চালু রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ভয়েস কল এবং সীমিত গতির ইন্টারনেট যোগ করার পরিকল্পনা আছে। বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী জানান, এখন পর্যন্ত ফলাফল ইতিবাচক। তবে আইএমটি ব্যান্ডের তরঙ্গ স্যাটেলাইট সেবায় ব্যবহারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নে (আইটিইউ) এখনো আলোচনাধীন। ২০২৭ সালের ওয়ার্ল্ড রেডিও কনফারেন্সে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

ডিটুসি প্রযুক্তির মূল সুবিধা হলো, এটি ব্যবহারের জন্য আলাদা স্যাটেলাইট ফোনের প্রয়োজন নেই। মোবাইল নেটওয়ার্কের কভারেজের বাইরে চলে গেলেই ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্টারলিংকের স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করে। টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির জানান, সুন্দরবনের গভীর, পাহাড়ি এলাকা বা সমুদ্রের ভেতরেও বার্তা আদান-প্রদান সম্ভব হচ্ছে। স্টারলিংকের পরবর্তী প্রজন্মের স্যাটেলাইট সক্রিয় হলে ভয়েস কলের সুযোগও মিলতে পারে।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ডিটুসি প্রযুক্তি দ্রুত এগোচ্ছে। ফিলিপাইনের গ্লোব টেলিকম সম্প্রতি বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালু করেছে। মিন্দানাওয়ে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পের পর জরুরি যোগাযোগে এটি কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ফরচুন বিজনেস ইনসাইটসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল ডিটুসির সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল বাজার হবে।

বাংলাদেশে বর্তমানে মোট মোবাইল গ্রাহক ১৯ কোটির কাছাকাছি, যার মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন প্রায় ১২ কোটি মানুষ। অপারেটরগুলোর নিজস্ব টাওয়ার আছে ২১ হাজার ৩৬৯টি এবং আরও ৭ হাজারের বেশি টাওয়ার ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা হয়। তবে দুর্গম এলাকায় টাওয়ার বসানো অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক না হওয়ায় নেটওয়ার্কের ঘাটতি রয়ে গেছে। সম্প্রতি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি এলাকায় এক শিক্ষককে নেটওয়ার্কের অভাবে গাছে উঠে হাজিরার ছবি পাঠাতে হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিটুসি প্রযুক্তি এই সমস্যার সাশ্রয়ী সমাধান দিতে পারে।

বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান জানান, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ফল ইতিবাচক। বাণিজ্যিক উদ্বোধনের পর প্রথমে এসএমএস ও ওটিটি মেসেজিং সেবা পাওয়া যাবে। পরে ভয়েস ও ডেটা সেবা সংযুক্ত করার পরিকল্পনা আছে। তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এই প্রযুক্তি জরুরি যোগাযোগের নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।