জীবন ও মৃত্যুর অনিবার্যতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় নিজের মানসিক প্রস্তুতির কথা জানিয়ে দিয়েছেন ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী লাকি আলী। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভ্রমণের সময় নিজের সঙ্গে 'কাফনের কাপড়' রাখেন। ১৬ আগস্ট দুবাইয়ে একটি কনসার্টে গান গাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর, সেই আয়োজনের আগে এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দর্শকদের সঙ্গে কথা বলার সময় লাকি আলী বলেন, 'আমি জানি, আমিও তোমাদের ভালোবাসি। একদিন তো আমাদের সবাইকে চলে যেতে হবে। আমি তোমাদের এর জন্য প্রস্তুত করছি না, কিন্তু আমি আসলে প্রস্তুত।' পবিত্র হজ পালনের সময় পুরুষেরা যে সাদা পোশাক পরেন, সেই ইহরামই তিনি ভ্রমণের সময় সঙ্গে রাখেন। মৃত্যুর পর সেটিই যেন কাফনের কাপড় হিসেবে ব্যবহার করা যায়—এমন ভাবনা থেকেই তাঁর এই প্রস্তুতি। তিনি বলেন, 'আমি যখনই ভ্রমণ করি, সঙ্গে আমার ইহরাম রাখি। এটিই আমার কাফনের কাপড়। যেখানে আমার মৃত্যু হবে, সেখান থেকেই আমাকে যেতে দিয়ো।' শিল্পীর বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ লিখেছেন, ছোটবেলা থেকে তাঁর গান শুনে বড় হয়েছেন, তাই প্রিয় শিল্পীর মুখে মৃত্যুর কথা শুনে কষ্ট হয়েছে। আরেক ভক্ত লাকি আলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃঢ়তার প্রশংসা করে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কামনা করেছেন। উল্লেখ্য, অভিনেতা মেহমুদের ছেলে লাকি আলী অভিনয়ের পরিবারে জন্ম নিলেও শেষ পর্যন্ত সংগীতকেই নিজের প্রধান পরিচয় হিসেবে বেছে নেন। নব্বই দশকে স্বাধীন সংগীতের জগতে তাঁর আবির্ভাব ছিল অনেকটাই ব্যতিক্রমী। 'ও সনম', 'এক পল কা জিনা', 'না তুম জানো না হাম', 'সফরনামা'সহ একের পর এক গান তাঁকে আলাদা জায়গা করে দেয় ভারতীয় সংগীতে। 'কহো না... পেয়ার হ্যায়', 'বচনা এ হাসিনো', 'ইউভা', 'আনজানা আনজানি' ও 'তামাশা'র মতো সিনেমায় তাঁর গান শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নেয়। সংগীতশিল্পী হওয়ার আগে জীবনের পথটা খুব একটা গোছানো ছিল না বলে জানিয়েছিলেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে লাকি আলী বলেছিলেন, সংগীতশিল্পী হওয়ার আগে তিনি ছিলেন 'ভেলা'—অর্থাৎ কাজকর্মহীন। তাঁর ভাষায়, 'আমি তার আগে একেবারেই ভেলা ছিলাম। একদম ভেলা। কোনো কাজের ছিলাম না। আমি কোনো চাকরি ধরে রাখতে পারতাম না, কারণ চাকরি করার জন্য আমি তৈরি ছিলাম না।' শৈশবের একটি বড় সময় তিনি খামারে কাটিয়েছেন। পশুপালন ও ঘোড়ার প্রজনন নিয়েও তাঁর আগ্রহ ছিল। মূলধারার বলিউডে কাজ করার সুযোগ থাকলেও একটা সময় সেখান থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন লাকি আলী। নিজের মতো করে গান করতে চাওয়ার তাগিদ থেকেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। শ্যাম বেনেগালের মতো নির্মাতার সঙ্গে কাজ করেছেন, নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি এবং ওম পুরির মতো অভিনয়শিল্পীদের কাছ থেকেও অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্রের চেনা কাঠামোর চেয়ে নিজের সংগীতের জগতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজে পান তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে কিংবদন্তি শিল্পীদের কণ্ঠ নকল করার প্রবণতা নিয়েও আপত্তি রয়েছে তাঁর। লাকির মতে, প্রযুক্তি কোনো শিল্পীর কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করতে পারলেও সেই শিল্পীর অনুভূতি বা আত্মা পুনরায় তৈরি করতে পারে না। তাঁর মন্তব্য, 'একজন শিল্পী সব সময়ই শিল্পী থাকবেন। এআই সব সময়ই আত্মাহীন থাকবে।'
ভ্রমণে কাফনের কাপড় সঙ্গে রাখেন লাকি আলী, মৃত্যুকে ঘিরে যা বললেন
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী লাকি আলী জানিয়েছেন, তিনি মৃত্যুর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। এমনকি ভ্রমণের সময় নিজের সঙ্গে ইহরাম রাখেন, যা তাঁর কাফনের কাপড় হিসেবে ব্যবহৃত হবে। মৃত্যু নিয়ে তাঁর এই আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি ভক্তদের আবেগাপ্লুত করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।




