যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালিত হয়েছে। দিবসটির গুরুত্ব উপলব্ধি করে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই যোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, পেশাজীবী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষার্থী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিপুল সংখ্যক মানুষ। শুরুতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, অভ্যুত্থানের সময় প্রবাসীরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্র-জনতার সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁরা জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন বক্তারা।

কনসাল জেনারেল কাজী মুহম্মদ জাবেদ ইকবাল তাঁর বক্তব্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী অধ্যায়। ছাত্র-জনতার অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয়ের চেতনা সমুন্নত রাখা সবার দায়িত্ব।’ তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ বা অন্য যেকোনো অপশক্তি যেন দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি এবং দেশের জনগণের কল্যাণ কামনা করা হয়। কনস্যুলেট অফিস সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।