ঢাকার একটি আদালত সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলকের মামলার শুনানির দিন আদালত প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে গ্রেপ্তার চার ব্যক্তিকে রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন মোস্তাকিম হোসেন (৫১), মো. নূর আলম (৩৫), মো. রুহুল আমিন (২৯) ও মো. আনোয়ার হোসেন (৪৮)।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী অভিযোগ করেন, তাঁর মক্কেলরা কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন। তিনি বলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলককে গত সোমবার আদালতে দেখতে এসে গ্রেপ্তার হন কতিপয় শুভাকাঙ্ক্ষী। আদালত চত্বরে কোনো বিশৃঙ্খলা না থাকলেও তাঁদের আটকের ঘটনা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন এই আইনজীবী।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ট্রাকচালক হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলকসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের দিন ধার্য ছিল ২৬ জুলাই। ওই শুনানি উপলক্ষে পলকসহ গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের ক্যানটিন গেট এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের কতিপয় সদস্য ও সমর্থক সমবেত হন। তাঁরা পলককে প্রিজন ভ্যানে নেওয়ার সময় সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করেন। তখন চারজনকে আটক করা হয়, বাকিরা পালিয়ে যান। আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর সেদিনই (২৬ জুলাই) তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামিনুর রহমান।

পরের দিন (২৭ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক ইবনে খালিদ হোসেন আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করে এবং পরে রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামিদের অবস্থান চিহ্নিতকরণ এবং অর্থ জোগানদাতা ও চক্রান্তকারীদের খুঁজে বের করতে আসামিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড অত্যন্ত প্রয়োজন।