ডিজনির প্রধান নির্বাহী জোশ ডি'আমারো সম্প্রতি কোম্পানির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেছেন। ভক্তদের প্রত্যাশা বোঝা এবং তাদের গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সিইও হিসেবে তার কাছে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কোম্পানির সম্প্রসারণ কৌশল প্রসঙ্গে ডি'আমারো বলেছেন, ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার বিকল্প নেই। শুধু নতুন প্রকল্প নয়, বরং বিদ্যমান সেবার মানোন্নয়নেও সমান মনোযোগ দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, প্রতিষ্ঠানের মূল শক্তি হলো গল্প বলা এবং সেই গল্প যেন প্রতিটি প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে পৌঁছায় সেদিকেও নজর দিতে হবে।
ডিজনি তাদের থিম পার্ক, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম এবং সিনেমা—সব খাতেই নতুন নতুন পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে। এই পরিকল্পনাগুলোর কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে দর্শক ও ভক্তদের চাহিদা। ডি'আমারোর ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু সংখ্যার দিকে তাকিয়ে নয়, বরং মানসিক সংযোগ তৈরি করেই ব্যবসা বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
একজন সিইও হিসেবে তার কাছে দলগত কাজ, স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা—এই তিনটি নীতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই তিনটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করেই তিনি ডিজনিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। তার মতে, সঠিক কর্মসংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলে বাকি সব স্বয়ংক্রিয়ভাবে সফল হয়।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিনোদন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন চলছে। নতুন প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত দর্শক আচরণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ডিজনিকে বেশ কিছু কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। ডি'আমারো মনে করেন, এই চ্যালেঞ্জিং সময়েই প্রকৃত নেতৃত্বের পরীক্ষা হয়। প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য বজায় রেখে কীভাবে আধুনিকতার ছোঁয়া আনা যায়, সেটিই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিজনি তাদের স্ট্রিমিং সেবায় ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি থিম পার্কগুলোর অভিজ্ঞতাও নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কোম্পানিটি শুধু বর্তমান গ্রাহকদের ধরে রাখতে নয়, নতুন প্রজন্মের কাছেও পৌঁছাতে চায়। ডি'আমারোর নেতৃত্বে এই ধারা আরও জোরদার হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।




