মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক বাণিজ্যের চিত্রে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। টানা চতুর্থ মাস ধরে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি বাড়তে থাকায় অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি তথ্য বলছে, এই ধারাবাহিক বৃদ্ধির পেছনে প্রধান একটি কারণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ, যা আমদানি ব্যয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো — যেমন গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট, ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, ওরাকলসহ আরও কয়েকটি কোম্পানি — এআই পরিকাঠামো গড়ে তুলতে প্রতি মাসে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। এই ব্যয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে অত্যাধুনিক চিপ, সার্ভার ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম আমদানিতে। ফলে দেশটির আমদানি বিল ক্রমশ বাড়ছে, যা ঘাটতির চাপ বাড়িয়ে তুলছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যদিও এআই বিনিয়োগকে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উপায় হিসেবে দেখা হয়, তবে স্বল্পমেয়াদে এটি বাণিজ্য ভারসাম্যে চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষত, প্রযুক্তি পণ্যের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি খরচ বেশি হওয়ায় ঘাটতির ব্যবধান আরও প্রশস্ত হচ্ছে।
এদিকে, এই ঘাটতি পূরণে নীতি নির্ধারকরা কী পদক্ষেপ নেবেন, তা নিয়ে বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে জল্পনা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এআই খাতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে এই ঘাটতি কমতে পারে। তবে আপাতত ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকা এই ঘাটতি মার্কিন অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিতেও কিছু প্রবৃদ্ধি হয়েছে, কিন্তু তা আমদানি বৃদ্ধির গতির তুলনায় অনেক কম। ফলে বাণিজ্য ভারসাম্যের এই ব্যবধান দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের গতি অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতেও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এআই বিপ্লবের সুফল পেতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সাময়িকভাবে যে বাণিজ্য ঘাটতির খেসারত দিতে হচ্ছে, তা এখন স্পষ্ট। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট খাতের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে ভাবনা শুরু হয়েছে।




