রাজধানীর পুরান ঢাকা এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে ঘিরে রাতভর উত্তেজনা বিরাজ করেছে। সোমবার দিবাগত রাতে মুরগিটোলা এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের এবং পরে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপ্রয়োগ করে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার ভোররাতে মুরগিটোলা মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। তারা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং দীর্ঘ সময় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে তারা সড়ক ছেড়ে দিলেও এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিল।
ঘটনার সূত্রপাত আজহারুল ইসলাম নামের ওই শিক্ষার্থীর ভাড়া বাসার পানির লাইন মেরামতকে কেন্দ্র করে। আইন বিভাগের ওই শিক্ষার্থী কাজ শেষে প্লাম্বার মাইকেলের কাছে আরও টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্লাম্বার তার জুতা নিয়ে যান। জুতা ফেরত চাইতে গেলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে পরিণত হয়।
এ সময় বাড়িওয়ালার ছেলে আশিক ঘটনাস্থলে এলে আজহারুলকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। এতে তার মাথা ফেটে যায়। খবর পেয়ে সহপাঠীরা এগিয়ে এলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে এবং সংঘর্ষ বাধে। গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। শিক্ষার্থীরা আশিককে ধরতে চাইলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা করে।
পুলিশের লাঠিপ্রয়োগে লিমন ইসলাম ও অপূর্ব রায়সহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। তারা দুজনই গণমাধ্যমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। পুলিশের ডেমরা জোনের এডিসি মীর মুহাসীন দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা বাঁশ নিয়ে পুলিশকে ধাওয়া দিতে এলে আত্মরক্ষায় লাঠি ব্যবহার করা হয়। তিনি জানান, পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. নাসির উদ্দীন বলেন, শিক্ষার্থীরা পুলিশের কাছ থেকে একজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করায় পরিস্থিতি জটিল হয় এবং পুলিশ তা নিয়ন্ত্রণে লাঠি ব্যবহার করে। তিনি আহতদের খোঁজখবর রাখছেন বলে জানান।
ঘটনাটি নিয়ে পুরান ঢাকায় বেশ কিছু সময় ধরে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করে। প্রশাসনের ভূমিকা ও পুলিশের লাঠিপ্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।




