ঢাকার আদালত প্রধানমন্ত্রীর সিল, স্বাক্ষর এবং সরকারি লেটারহেড ব্যবহার করে জাল নথি তৈরি ও প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার ছয়জনকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ড শুনানির জন্য বুধবার কারাগার থেকে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের পর আদালত প্রত্যেক আসামির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আসামিরা হলেন ফারুক হোসেন, সাকিব খান, মাসুম মুনসী, মীর তৌহিদুল ইসলাম, বকুল মণ্ডল ও রফিকুল ইসলাম। রমনা মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর আগে ৫ আগস্ট গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ৭ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপপরিদর্শক মো. সামিম সরদার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। সেই দিন আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ১২ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নাম ও খাম ব্যবহার করে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি খামে সাত পাতার নথি পাঠানো হয়েছিল। ওই খামে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা, মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর সংবলিত নথি ছিল। নথিগুলোর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তদন্তের জন্য বিষয়টি ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগে পাঠানো হয়। সেই চিঠির সূত্র ধরেই সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম, পরিচয় ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়া নথি তৈরির বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।

তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সিল, স্বাক্ষর ও দাপ্তরিক লেটারহেড জাল করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছে। এ ঘটনায় ৫ আগস্ট ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক রায়হানুর রহমান বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. সামিম সরদার বলেন, আদালত ছয় আসামির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। রিমান্ডের আদেশ হাতে পেলে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।