অস্ট্রেলিয়ায় প্রাণঘাতী এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব দ্রুত বাড়ছে, যা বন্য প্রাণী ও সামুদ্রিক পাখিদের জন্য চরম বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বোডিন রক্স উপকূলে সম্প্রতি পঞ্চাশেরও বেশি সামুদ্রিক পাখির মৃত্যু হয়েছে, এবং একইসঙ্গে অসংখ্য পাখি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাকে চিকিৎসকেরা একটি বড় আকারের 'গণমৃত্যু' আখ্যা দিয়েছেন। গাঙচিল প্রজাতির পাখির দেহে প্রথমবারের মতো এই মারক ভাইরাসের সন্ধান মেলায়, জীববৈচিত্র্য ও বন্য প্রাণীর ওপর বড় একটি সংকটের গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অস্ট্রেলীয় প্রশাসনের একটি সামপ্রতিক পর্যালোচনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চলমান বার্ড ফ্লু এর কারণে দেশটির কমপক্ষে পাঁচটি বন্য প্রাণী ও সামুদ্রিক পাখির প্রজাতি সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। উপরন্তু, আরও শতাধিক প্রজাতির জনসংখ্যা ভয়াবহ রকমের পতন ঘটার ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ইনভেসিভ স্পিসিজ কাউন্সিলের প্রধান জ্যাক গফ প্রশাসনের এই পর্যবেক্ষণকে ‘ধ্বংসের একটি তালিকা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বন্য প্রাণী সুরক্ষার জন্য ২০০ মিলিয়ন (২০ কোটি) ডলারের একটি জরুরি আর্থিক তহবিল গঠনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। বিপদাপন্ন প্রাণীর এই তালিকায় শুধু সংকটাপন্ন পাখি নয়, বরং তাসমানিয়ান ডেভিল, ইস্টার্ন কোয়েল, ডলফিন ও সিলের মতো স্তন্যপায়ী প্রাণীকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মহামারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রায়না ম্যাকইন্টাইয়ার এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, ২০২০ সাল থেকে জিনগত পরিবর্তন হওয়া বার্ড ফ্লু ভাইরাসের এই রূপটি সারাবিশ্বে বন্য প্রাণী এবং সার্বিক জীববৈচিত্র্যের জন্য ব্যাপক ও অপূরণীয় ক্ষতি করে চলেছে। অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশমন্ত্রী মারে ওয়াট সতর্ক করে বলেছেন, আসন্ন বসন্তের প্রজনন মৌসুমে এই সংক্রমণ দেশের প্রধান ভূখণ্ডে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যেহেতু মুক্ত অবস্থায় থাকা বন্য পাখিদের সরাসরি টিকা দেওয়া অত্যন্ত দুষ্কর, তাই সরকার খাঁচায় বন্দী ও অতি-বিপন্ন প্রজাতিকে সুরক্ষার জন্য ৪৭ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যে প্রতিষেধকের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ আরম্ভ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশটির প্রশাসন পোলট্রিশিল্পের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতাও জারি করেছে।




