ধনকুবের ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের একটি পরিত্যক্ত রকেট বুধবার রাতে চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। ফ্যালকন ৯ নামের রকেটটি ২০২৫ সালে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। সাধারণত রকেটের ব্যবহৃত অংশ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসলেও ওই অভিযানে বেশি শক্তির প্রয়োজন হওয়ায় দ্বিতীয় ধাপটি মহাকাশেই থেকে যায়। দীর্ঘদিন ধরে ভেসে বেড়ানোর পর এটি চাঁদের দিকে ধাবিত হয়।

রকেটটির ওই অংশের ওজন প্রায় ৪ হাজার কেজি। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, এই ঘটনায় পৃথিবীর কোনো ঝুঁকি নেই। তবে চাঁদে প্রায় ১৮ মিটার চওড়া ও ৪ মিটার গভীর একটি গর্ত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংঘর্ষের ফলে চাঁদের বুকে ধুলাবালুর বিশাল মেঘও সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বছরের শুরুতেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছিলেন যে রকেটের অংশটি চাঁদের দিকে যাচ্ছে। স্পেসএক্সের কর্মকর্তা জুলিয়ানা শেইম্যান জানান, সৌরশক্তি ও মহাকর্ষীয় শক্তির সম্মিলিত প্রভাবে রকেটটি চাঁদের দিকে চলে গেছে। অন্যদিকে জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত সফটওয়্যার নির্মাতা বিল গ্রে মনে করেন, এ ঘটনা থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

চাঁদে রকেট আছড়ে পড়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। সর্বশেষ ২০২২ সালে একটি চীনা রকেটের অংশ চাঁদে আঘাত করেছিল। এর আগে ২০০৯ সালে নাসা গবেষণার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি রকেটের অংশ চাঁদে ফেলেছিল। এছাড়াও চাঁদে অবতরণের চেষ্টা করতে গিয়ে বেশ কয়েকটি মহাকাশযান বিধ্বস্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার লুনা-২৫ (২০২৩), ভারতের চন্দ্রযান-২ ল্যান্ডার (২০১৯) এবং ইসরায়েলের বেরেশিট (২০১৯)। এই ঘটনাগুলোর তুলনায় বর্তমান ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল।