গ্রীষ্মকালীন সময়ে আইসক্রিম বিক্রি, সুইমিং পুলে লাইফগার্ডের দায়িত্ব বা দোকানে তাক সাজানোর কাজ কিশোর-কিশোরীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে একটি ঐতিহ্যবাহী অভিজ্ঞতা। বাস্তব জগতের দক্ষতা অর্জন আর নিজের পকেটমানি উপার্জনের প্রথম ধাপ হিসেবে এটিকে দেখা হয়। কিন্তু সম্প্রতি পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে; মহামন্দার পর থেকে এখনকার মতো খারাপ গ্রীষ্মকালীন চাকরির বাজার আর দেখা যায়নি। স্থানীয় ছোট দোকানে কাজ পাওয়া এখন কর্পোরেট অফিসে পূর্ণকালীন চাকরি পাওয়ার চেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্ট্রিলের ১৭ বছর বয়সী সাইমন চৌ ফরচুনকে বলেন, “আমি ভাবিনি এত কঠিন হবে। আমি ভেবেছিলাম হয়তো সহজেই পেয়ে যাব। কিন্তু এত আবেদন করার পরও মনে হচ্ছে হতাশ হয়ে পড়ছি। আমি সব জায়গায় খুঁজছি, এখন যেকোনো কাজ নেব।” চলতি বছরের মে, জুন ও জুলাই মাসে কিশোর-কিশোরীদের জন্য প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে; গত বছর একই সময়ে ছিল প্রায় ৮ লাখ ১ হাজার। চ্যালেঞ্জার, গ্রে অ্যান্ড ক্রিসমাসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যদি এই ধারা চলতে থাকে, তবে ১৯৪৮ সালে শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো তথ্য সংগ্রহ শুরু করার পর থেকে এ বছর কিশোর নিয়োগের হার সর্বনিম্ন হবে। এর আগে ২০১০ সালে (৯ লাখ ৬০ হাজার) এত খারাপ পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মহামন্দার ধাক্কা কাটিয়ে উঠছিল।
নিউ ইয়র্কের কারমেলের ১৯ বছর বয়সী সামান্থা রোসাফোর্তে গত শরতে নিউ ইয়র্ক সিটিতে মার্কেটিং বা কমিউনিকেশন বিষয়ে কাজের খোঁজ শুরু করেন। লিংকডইন ও ইনডিডের চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে তিনি প্রায় ৮০টি গ্রীষ্মকালীন কাজে আবেদন করেন। কিন্তু প্রায় সবগুলোতেই কোনো সাড়া পাননি; এমনকি প্রত্যাখ্যানের বার্তাও পাননি কয়েকটি থেকেই। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে তিনি সম্পূর্ণ আশা হারিয়ে ফেলেছিলেন বলে জানান। তিনি বলেন, “আমার মনে হচ্ছিল আমি কোনো কোম্পানির জন্য উপযুক্ত নই, কারণ রেজুমের ধাপটাও আমি পার হতে পারছি না। আমি এত অসহায় বোধ করছিলাম, যেন আমার কাছে কিছুই নেই।” অবশেষে হেলোফ্রেশে সোশ্যাল মিডিয়া ইন্টার্নশিপের জন্য ডাক পান তিনি। তিনটি সাক্ষাৎকারের পর কাজটি পান এবং এখন ১০ সপ্তাহের সেই ইন্টার্নশিপের এক সপ্তাহ বাকি। ভবিষ্যতে স্নাতক শেষ করার আগেই এন্ট্রি-লেভেলের কাজের জন্য আগেভাগে আবেদন করার পরিকল্পনা তার।
যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল মার্কেটিং উদ্যোক্তা এস্টেল কিবার জানান, তার দুই ছেলেও এ বছর কঠিন বাজারের মুখোমুখি হয়েছে। তার ১৭ বছর বয়সী ছেলে জেড মাসের পর মাস চেষ্টা করে যাচ্ছে, কিন্তু নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে আবেদন করেও সফল হয়নি। আর ১৫ বছর বয়সী ওবি অনলাইনে চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর নিজেই উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিবার বলেন, “যুক্তরাজ্যে ১০ বছর আগে তরুণরা শনিবারের কাজ পেত। এখন স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা ও বীমার কারণে সেই বাধা তৈরি হয়েছে।” ওবি নিজের এলাকায় সাইকেল মেরামত ও বাগানের কাজ করে সপ্তাহে প্রায় ১০০ পাউন্ড আয় করে।
এদিকে, অনেক কিশোর-কিশোরী পুরনো পদ্ধতিতে কাজ খোঁজার চেষ্টা করছে। কানেটিকাটের ১৮ বছর বয়সী লুক ডেলা ভ্যালে সরাসরি দোকানে গিয়ে কাজ চেয়ে শিশুদের হেয়ার সেলুন শার্কিতে চাকরি পেয়েছেন। তার পাঠানো অনলাইন আবেদনগুলোতে কোনো সাড়া না মিললেও মুখোমুখি কথায় কাজটি পেয়ে গেছেন। তবে তিনি বলেন, “অনলাইনে প্রত্যাখ্যান করা সহজ, তাই অধিকাংশ জায়গা থেকে ‘না’ শুনতে হয়েছে, কারণ তারা অভিজ্ঞ ও দীর্ঘমেয়াদে থাকবে এমন কাউকে চায়।” নিউ ইয়র্কের স্টেটন আইল্যান্ডের ১৫ বছর বয়সী সোফিয়া স্মিথও সরাসরি গিয়ে রালফস ফেমাস ইতালিয়ান আইসেসে কাজ পেয়েছেন। তিনি এই গ্রীষ্মে দুইটি কাজ করছেন—একটি নিউ ইয়র্ক সিটির সামার ইয়ুথ এমপ্লয়মেন্ট প্রোগ্রামে, যেখানে তিনি প্রায় ৭০০ ডলার আয় করছেন, আর অন্যটি আইসক্রিমের দোকানে ঘণ্টায় ১৭ ডলারে। তিনি বলেন, “আপনাকে সত্যিই এগিয়ে যেতে হবে, নিজে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে হবে ‘আপনারা কি নিয়োগ দিচ্ছেন?’ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা।”




