আগামী বুধবার রাতে আটলান্টায় বিশ্বকাপ ফুটবলের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করে লিওনেল মেসির দল। টানা কঠিন প্রতিপক্ষকে পেছনে ফেলে আসা আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি এখন পুরোপুরি ইংল্যান্ড ম্যাচের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিয়েছেন। তবে তিনি অতীতের রাজনৈতিক প্রসঙ্গ বা ফুটবলের বাইরের কোনো ইস্যুকে গুরুত্ব দিতে নারাজ।

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার গভীরে রয়েছে দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধ। আর্জেন্টিনায় এই দ্বীপপুঞ্জ মালভিনাস নামে পরিচিত এবং এ নিয়ে এক সময় দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ পর্যন্ত হয়েছে। কিন্তু সেই ইতিহাসকে ফুটবল মাঠে টেনে আনতে রাজি নন স্কালোনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তাঁর কাছে এই ম্যাচটি কেবল একটি ফুটবল খেলা, এর বাইরে অন্য কিছু নয়। ইংল্যান্ডের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেও তিনি ফুটবলের বাইরের আলোচনা এড়িয়ে যান।

ইংল্যান্ড সম্পর্কে স্কালোনি বলেন, দলটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তাদের কোচ অসাধারণ দক্ষতা সম্পন্ন। তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছু মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। নিজেদের দলের প্রসঙ্গে স্কালোনি স্বীকার করেন যে তাদের খেলায় আরও উন্নতি প্রয়োজন। বিশেষ করে কেপ ভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের কঠিন জয় থেকে তারা শিক্ষা নিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা সেমিফাইনালে কাজে লাগাতে চান তিনি।

স্কালোনির মতে, আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো খেলোয়াড়দের জয়ের তীব্র ইচ্ছা। তিনি মনে করেন, এই প্রবল আকাঙ্ক্ষাই কঠিন ম্যাচগুলোতে জিততে সাহায্য করছে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, সেমিফাইনালে পৌঁছানো মোটেও সহজ নয় এবং এই অর্জনকে কখনোই স্বাভাবিকভাবে দেখা উচিত নয়। বরং সন্তুষ্ট থাকা ও প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করার ওপর জোর দিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন কোচ।

টুর্নামেন্টের শেষটা আরও সুন্দর করতে চান স্কালোনি। খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তাঁর নির্দেশ—শেষ পর্যন্ত সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করতে হবে, শরীরের শেষ শক্তি ও শেষ বিন্দু ঘাম ঝরিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াইয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত সফলতা এলে তা হবে অসাধারণ। আর না এলেও আক্ষেপ থাকবে না যে চেষ্টা তারা করেনি।