বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ জেন-জি তরুণ-তরুণী যখন চাকরির বাজারে টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির প্রধান নির্বাহীরা (সিইও) তাদের জন্য আশার আলো দেখিয়েছেন। তারা বলছেন, কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও সুযোগ এখনও আছে, তবে তার জন্য প্রয়োজন সঠিক মানসিকতা। অ্যামডির সিইও লিসা সু তাঁর বক্তব্যে সবচেয়ে কঠিন সমস্যার দিকে ছুটে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সবচেয়ে বড় সুযোগ, সবচেয়ে বেশি শিক্ষা এবং নিজেকে আলাদা করে তোলার জায়গা হলো কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর মাঝেই। একই সুরে অ্যাকসেন্টিওরের প্রধান জুলি সুইট জানিয়েছেন, কৌতূহলী থাকা এবং অনিশ্চয়তাকে আলিঙ্গন করাই তাঁর নেতৃত্বের আসনে পৌঁছানোর মূল চাবিকাঠি ছিল। তিনি তরুণদের বলেছেন, শীর্ষ পর্যায়েও সব উত্তর জানা জরুরি নয়; বরং গভীরভাবে শিখতে থাকা এবং অন্যের সাহায্য নেওয়াই প্রকৃত শক্তি।

অ্যামাজনের সিইও অ্যান্ডি জ্যাসি মনে করেন, অল্প বয়সে পুরো ক্যারিয়ারের পথ পরিকল্পনা করার চাপ অনেকটাই অপ্রয়োজনীয়। নিজের সন্তানদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি বলেছেন, নিজের জীবনে কী করতে চান তা শুরু থেকেই জেনে ফেলার প্রয়োজন নেই। তিনি নিজেই একাধিক পেশায় হাত দিয়ে শিখেছেন কী করতে চান না—সেটাও জানা সমান গুরুত্বপূর্ণ। সিটি ব্যাংকের প্রধান জেন ফ্রেজার তাঁর দুই ছেলের ক্যারিয়ার শুরু দেখে বুঝেছেন, ভবিষ্যতে বর্তমান অনেক চাকরির অস্তিত্বই হয়তো থাকবে না। তাই তিনি তরুণদের বড় স্বপ্ন দেখতে এবং কর্মজীবনে নিজেকে পুনরায় আবিষ্কার করার দক্ষতা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, এআই-চালিত বিশ্বে সব উত্তর জানার চেয়ে বিচারবুদ্ধি ও মানবিক সহজাত জ্ঞানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যাকডোনাল্ডসের সিইও ক্রিস কেম্পকজিনস্কি এক ইন্সটাগ্রাম পোস্টে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, নিজের ক্যারিয়ারের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি যত্ন নিতে হবে ব্যক্তিকেই। তাঁর মতে, হ্যাঁ বলার মানসিকতা রাখা এবং উন্মুক্ত মনের চর্চা করলেই ক্যারিয়ারের উত্থান-পতনে টিকে থাকা সম্ভব। অন্যদিকে এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং জেন-জিদের দক্ষ কারিগরি পেশার দিকে নজর দিতে বলেছেন। তাঁর মতে, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার বা ছুতারের মতো পেশাগুলো এআই-প্রতিরোধী এবং প্রযুক্তির বিকাশের জন্য এদের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। প্রাক্তন ওয়ালমার্ট সিইও ডগ ম্যাকমিলন নিজের সফলতার পেছনে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব নেওয়ার প্রবণতাকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, উর্ধ্বতনের অনুপস্থিতিতে কাজ করতে এগিয়ে আসা এবং নিজেকে প্রমাণের সুযোগ করে নেওয়াই তাকে পরবর্তী ধাপে যেতে সাহায্য করেছে। সব মিলিয়ে সিইওদের বার্তা স্পষ্ট: চ্যালেঞ্জকে ভয় না করে বরং তা আলিঙ্গন করলে এবং নিজের ক্যারিয়ারের মালিকানা হাতে নিলেই অস্থির চাকরির বাজারেও সাফল্য পাওয়া সম্ভব।