যুক্তরাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি গ্রহণের ফলে চাকরির বাজারে এক ধরনের বৈষম্য তৈরি হয়েছে, যেখানে অভিজ্ঞ ও প্রযুক্তি-দক্ষ পেশাদারদের চাহিদা বাড়লেও অন্যান্য খাতে নিয়োগ সংকুচিত হচ্ছে। চাকরি অনুসন্ধান বিষয়ক ওয়েবসাইট ইনডিড-এর ব্লুমবার্গের সঙ্গে শেয়ার করা তথ্য বলছে, চলতি মাসে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম শূন্যপদের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। তবে এই পতন বড় ধরনের বৈষম্যকে আড়াল করে রেখেছে, কেননা কোম্পানিগুলো খরচ কমানো ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এআই গ্রহণ করছে।

সফটওয়্যার ডেভেলপারদের চাহিদা আবারও বেড়েছে, যেখানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সংখ্যা ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের পেশায় ২০২২ সাল থেকে বড় ধরনের চাকরি সংকোচন চললেও, এখন সিনিয়র ও সরাসরি এআই সংশ্লিষ্ট ভূমিকায় নিয়োগ বাড়ছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রকৌশলসহ যে সব খাতে নিয়মিত কাজ এআই করে দিচ্ছে, সেখানে অভিজ্ঞতার মূল্যও বেড়েছে। গ্রীষ্মের পর থেকে এ খাতগুলোর কর্মসংস্থানই বাজারের মধ্যে টিকে থাকতে পেরেছে।

অন্যদিকে, হিসাববিজ্ঞান বা বিপণনের মতো চাকরিির যেগুলোতে AI সহজেই প্রতিস্থাপন সম্ভব, সেসব এবং খুচরা, ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে চাকরির বিজ্ঞাপন দ্বিগুণ সংখ্যায় কমেছে। নিয়োগকারীরা উচ্চ কর্মী খরচ ও অস্থির অর্থনীতির মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ইনডিডের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জ্যাক কেনেডি বলেছেন, “যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজার ক্রমশ দুটি ভিন্ন গতিতে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। পুরো পেশা জুড়ে সমভাবে চাহিদা ছড়িয়ে না পড়ে, তা কেন্দ্রীভূত হচ্ছে অভিজ্ঞ কর্মী এবং সরাসরি এআই-সংশ্লিষ্ট চাকগির চারপাশে।”

যে ধরনের পদ সৃজিত হচ্ছে, তা মূলত সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত দক্ষতার অধিকারী অভিজ্ঞদের দিকেই ঝুঁকছে। এর মানে, যারা চাকরি পরিবর্তন করতে চান, শ্রমবাজারে পুনঃপ্রবেশ করতে চান বা প্রথম কাজ খুঁজছেন, তাদের অনেকের জন্য এ সুযোগগুলো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এ পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের পরিকল্পনার ওপরও প্রশ্ন তুলছে। তিনি কারিগরি শিক্ষায় উৎসাহিত করার মাধ্যমে তরুণদের ক্যারিয়ার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে চান। একটি ভিডিওতে তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, AI হয়তো একটি প্রবন্ধ লিখতে পারবে, কিন্তু ট্রেন বানাতে পারবে না। অথচ শ্রমঘনিষ্ঠ নীল-কলার চাকরিতেও নিযোগ ব্যাপকভাবে কমেছে। ২০২৪ সালের জুনের তুলনায় ম্যানুফ্যাকচারিং এর চাহিদা ৫৮% কম, এবং গত গ্রীষ্মের তুলনায় ১৮% নিচে। ইনস্টলেশন, রক্ষণাবেক্ষণ, মাল লোড-আনলোড ও নির্মাণ কাজের পোস্টিংও পুনরুদ্ধার হতে পারেনি।

ব্রিটেনে যুব বেকারত্ব এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ইংল্যান্ড ব্যাংকের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি এর জন্য ‘কম নিয়োগ, কম ছাঁটাই’ অর্থনীতিকে দায়ী করছেন। কেনেডি আরও উল্লেখ করেন, “চাকরি প্রত্যাশীদের, বিশেষ করে যারা ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আছে, তাদের জন্য প্রতিযোগিতার মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। কারণ বাজারের শক্তিশালী ক্ষেত্রগুলোতে হয় বিশেষ এআই দক্ষতা নতুবা উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হচ্ছে।”