সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে স্পেসএক্সের শেয়ারের মূল্য ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছিল। সর্বশেষ স্টারশিপ উৎক্ষেপণের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শুক্রবার এ দরপতন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেনদেন শুরুর পর স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রায় ১২৫ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে টানা পাঁচ দিন ধরে চলা দরপতনে শেয়ারের মূল্য ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল।
মাস্কের মালিকানায় ৪৮০ কোটি শেয়ার ও ৩৫ কোটি স্টক অপশন রয়েছে। শেয়ারের দাম কমায় তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৪৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার কমে ৭৯২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। পরে সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে এটি ৭৯৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। এই পতনের পরও তিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি হিসেবে অবস্থান করছেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের সম্পদ ২৮৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার এবং তৃতীয় স্থানে থাকা সের্গেই ব্রিনের সম্পদ ২৬২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।
মাস্ক জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নির্ধারিত স্টারশিপের ১৩তম উৎক্ষেপণ শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, রকেটের সব ইঞ্জিন সক্রিয় হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে কয়েক দিনের মধ্যে আবার উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হবে। পরে এক্স প্ল্যাটফর্মে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে নতুন করে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে ইউবিএসের বিশ্লেষক গ্যাভিন পারসন্স বুধবারের এক নোটে জানান, সাম্প্রতিক দরপতনের কারণে স্টারশিপ উৎক্ষেপণের আগে স্পেসএক্সের শেয়ার কেনার উপযুক্ত সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, উৎক্ষেপণ সফল হলে কোম্পানি নতুন প্রযুক্তিগত মাইলফলক অর্জন করবে, যা শেয়ারের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। এটিই ছিল স্পেসএক্সের আইপিও-পরবর্তী প্রথম পরীক্ষামূলক স্টারশিপ ফ্লাইট, যেখানে বুস্টার ইঞ্জিন পুনরায় চালু করার সক্ষমতা ও হালনাগাদ স্টারলিংক স্যাটেলাইট মোতায়েনের প্রযুক্তি পরীক্ষার পরিকল্পনা ছিল।
স্পেসএক্সের আইপিও শেয়ারবাজারে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে এবং ইলন মাস্ক প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সম্পদমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যান। বর্তমানে শেয়ারের দাম কমায় তাঁর সম্পদমূল্য আইপিও-পূর্ববর্তী অবস্থার চেয়েও নিচে নেমে গেছে। গত ৩ জুন মাস্কের সম্পদমূল্য ছিল ৮১৩ বিলিয়ন ডলার, যা এখন ৮০০ বিলিয়নের নিচে। ১৬ জুন শেয়ারের সর্বোচ্চ মূল্যে তাঁর সম্পদ ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, যা থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার কমেছে।
মাস্কের অন্য প্রতিষ্ঠান টেসলা ২২ জুলাই সর্বশেষ প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। শেয়ারধারীরা মাস্ক ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন জমা দিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করা হয়েছে টেসলার রোবোট্যাক্সি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে। এক প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে কী কী বাধা রয়েছে এবং কেন রোবোট্যাক্সি পরিকল্পনার অগ্রগতি থমকে আছে।

