এসএসসি পরীক্ষা ২০২৭-এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গণিত বিষয়ের সপ্তম অধ্যায় (ব্যবহারিক জ্যামিতি) থেকে ১৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও তার উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো। বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চবিদ্যালয়, মতিঝিলের সিনিয়র শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন এই প্রশ্নগুলো প্রণয়ন করেছেন।

প্রশ্নগুলোর মধ্যে রয়েছে রম্বসের বৈশিষ্ট্য নিয়ে একাধিক প্রশ্ন। যেমন—রম্বসের সন্নিহিত বাহুগুলো পরস্পর সমান, সন্নিহিত কোণগুলো পরস্পর সম্পূরক এবং কর্ণদ্বয় পরস্পরকে সমকোণে সমদ্বিখণ্ডিত করে কি না—এই তিনটি বিবৃতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, যার সঠিক উত্তর হচ্ছে তিনটিই সঠিক। এছাড়া দুইটি কর্ণের দৈর্ঘ্য দেওয়া থাকলে রম্বস আঁকা সম্ভব বলেও জানানো হয়েছে।

একটি বাহুর দৈর্ঘ্য জানা থাকলে সুষম ত্রিভুজ, বর্গ এবং রম্বস—এই তিনটিই আঁকা যায় বলে প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে। সমকোণী ত্রিভুজ শনাক্তকরণের জন্য ৫, ১২, ১৩ এবং ৬, ৮, ১০ একক বাহুবিশিষ্ট ত্রিভুজ দুটি সমকোণী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে ১৪, ১৬, ২০ একক বাহু নিয়ে গঠিত ত্রিভুজটি সমকোণী নয়।

ত্রিভুজের মধ্যমা সংক্রান্ত একটি তথ্যের ভিত্তিতে দুটি প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হয়েছে। সেখানে ∠AOB-এর মান ১২০° এবং ∠MOC+∠NAM ∠AMB-এর সমান হবে বলে নির্ধারণ করা হয়েছে। অপর এক প্রশ্নে একটি ত্রিভুজের দুই কোণ ৫০° ও ৫০° হলে তৃতীয় কোণটি ৮০° হবে এবং অপর বাহুর দৈর্ঘ্য ৮ সেমি হতে পারে বলে উত্তর দেওয়া হয়েছে।

চতুর্ভুজ সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নেও আলোকপাত করা হয়েছে। সামান্তরিকের সন্নিহিত দুই কোণের সমষ্টি ১৮০° উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট চতুর্ভুজ অঙ্কনের জন্য ৫টি স্বতন্ত্র উপাত্ত প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে। একটি বর্গের বাহুর দৈর্ঘ্য তিন গুণ করলে ক্ষেত্রফল ৯ গুণ বৃদ্ধি পাবে—এমন তথ্যও দেওয়া হয়েছে। ৪:৫:১০:১১ অনুপাতের চতুর্ভুজের কোণগুলো ৪৮°, ৬০°, ১২০° ও ১৩২° হবে বলে উত্তর দেওয়া হয়েছে।

শুধু পরিসীমা জানা থাকলে বর্গ আঁকা সম্ভব, আর পরিসীমা ও একটি কোণের মান জানা থাকলে রম্বস আঁকা যাবে—এমন তথ্যও প্রশ্নে স্থান পেয়েছে। স্থূলকোণী ত্রিভুজে কেবল একটি স্থূলকোণ থাকে এবং ত্রিভুজের মধ্যমাত্রয়ের ছেদবিন্দুকে ভারকেন্দ্র বলে। সবশেষে, একটি রম্বস অঙ্কনের জন্য ২টি উপাত্ত প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।

এই প্রশ্নোত্তরগুলো শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্যামিতি অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলো স্পষ্ট করতে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি জোরদার করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।