লালমনিরহাটের পাটগ্রামে জমি ও গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিবাদের পর এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনরা বুড়িমারী স্থলবন্দর-লালমনিরহাট মহাসড়ক অবরোধ করেন। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পাটগ্রামের আন্তজেলা মোড়ে এ অবরোধ চলে। পরবর্তীতে প্রশাসনের আশ্বাস পেয়ে মরদেহ সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয় সূত্র, পুলিশ ও মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, পাটগ্রাম পৌরসভার রসুলগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ হোসেন ও তার বড় ভাই ফেরদৌস হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। গত শনিবার তাদের বাড়ির পাশে একটি গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এই বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ভিন্ন দুটি বর্ণনা শোনা গেছে। একপক্ষের ভাষ্যমতে, ওই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আয়োজিত সালিসি বৈঠকে পৌর যুবদলের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সামলু ইসলাম ফিরোজকে ধমক দেন এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। এরপর অপমানিত হয়ে ফিরোজ বাড়ি ফিরে বিষপান করন। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার তার মৃত্যু হয়।

অপরদিকে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেখানে বলা হয়, সালিসি বৈঠকের বেশ কয়েক ঘণ্টা পর সামলু ইসলাম, তার ভাই ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহিন ইসলাম, এবং শাহিনের পুত্র তুহিন ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি ফিরোজের বসতবাড়িতে ঢুকে তাকে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর অবস্থার অবনতি ঘটে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দেবব্রত রায় জানান, ওই যুবকের দেহে বিষের পরিমাণ অনেক ছিল এবং তার শারীরিক অবস্থা প্রাথমিক পর্যায় থেকেই সঙ্কটাপন্ন ছিল। ঘটনার সাথে অভিযুক্তদের কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি, কেননা তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে।

ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে সোমবার তার লাশ বাড়িতে পৌঁছলে বিচারের দাবিতে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা মরদেহটি বুড়িমারী-লালমনিরহাট মহাসড়কের ওপর রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। অবরোধের কারণে সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সংকট নিরসনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এর কিছুক্ষণ পূর্বে, রাত সোয়া ৯টায়, নিহতের বড় ভাই ফেরদৌস ইসলাম পাটগ্রাম থানায় একটি মামলা রুজু করেন। মামলায় শাহিন ইসলাম, সামলু ইসলাম ও তুহিন ইসলামকে আসামি করে বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, শারীরিক নিপীড়ন, আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক নিশ্চিত করেছেন যে, আসামিদের আটক করার জন্য প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে। তবে ওই তরুণের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।