পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূলে বঙ্গোপসাগরের গভীর থেকে ৫৪ কেজি ওজনের একটি তবল মাছ ধরা পড়ার ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। সোমবার গভীর রাতে ‘এফবি সালমা করিম’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারে এই মাছটি জালে আটকায়। পরের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সকাল সেটি আলিপুর মৎস্যবন্দরের আখি ফিশ আড়তে তোলা হয়।
এক নজর দেখতে সেখানে উৎসুক মানুষজন ভিড় করেন। পরবর্তীকালে আয়োজিত নিলামে মাছটি প্রতি কেজি ৬৬৬ টাকা দরে মোট ৩৫ হাজার ৯৬৪ টাকায় কিনে নেন মৎস্য ব্যবসায়ী রুবেল ঘরামী।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান রাজিব সরকার মাছটির চিত্র পর্যবেক্ষণ করে শনাক্ত করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিকভাবে ‘জায়ান্ট ট্রেভ্যালি’ নামে পরিচিত এই মাছটি কারাঙ্গিডি গোত্রের সদস্য। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে একে ‘নীলাম্বরী’ বা ‘উলুয়া’ বলেও ডাকা হয়ে থাকে।
মৎস্য গবেষক রাজিব সরকার আরও ব্যাখ্যা করেন, এসব মাছ সাধারণত প্রবালপ্রাচীরের কাছাকাছি ও গভীর উপকূলীয় সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে বিচরণ করে। খাদ্যতালিকায় ছোট মাছ, স্কুইড ও ক্রাস্টেসিয়ান মূল ভূমিকা রাখে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ প্রজাতির মাছ খাদ্য ও খেলাধুলার ছিপে শিকারের জন্যও বেশ মূল্যবান।
এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণের বিষয়ে তিনি বলেন, মাংস সুস্বাদু, প্রোটিনে ভরপুর এবং কাঁটা তুলনামূলক কম হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে এর বেশ চাহিদা রয়েছে। এছাড়া এই বিজ্ঞানী মনে করেন, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বৃহদাকার মাছের সুনির্দিষ্ট শনাক্তকরণ, ওজন, আয়তন ও ধরার স্থানের তথ্য সংরক্ষণ করা অপরিহার্য।
কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানতে দেন, বঙ্গোপসাগরের গভীরে এত বড় আকারের তবল মাছ সচরাচর ধরা পড়ে না। সেই কারণেই বন্দরে আসার পর স্থানীয় মানুষের মধ্যে অসাধারণ আগ্রহ দেখা গেছে।




