মহাবিশ্বের রহস্যময় অদৃশ্য উপাদান ডার্ক ম্যাটার নিয়ে নতুন এক গবেষণা চমকপ্রদ তথ্য এনেছে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে জানেন যে এই অদৃশ্য শক্তি গ্যালাক্সিগুলোকে একত্রে ধরে রাখে, কিন্তু এর প্রকৃতি এখনও পুরোপুরি বোঝা যায়নি। সম্প্রতি এক দল গবেষক দেখিয়েছেন, ডার্ক ম্যাটার কেবল আমাদের পরিচিত তিনটি স্থানিক মাত্রা ও একটি সময়ের মাত্রায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও গুটানো একটি পঞ্চম স্থানিক মাত্রায়ও বিচরণ করতে পারে।
গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের তেইগিউ লি। তিনি ব্যাখ্যা করেন, তাদের মডেল অনুযায়ী সাধারণ পদার্থের কণাগুলো চার মাত্রিক জগতে অবস্থান করলেও ডার্ক ম্যাটার সহজেই পঞ্চম মাত্রায় চলাচল করতে পারে। এই অতিরিক্ত মাত্রার বিশেষ জ্যামিতিক গঠনের কারণে ডার্ক ম্যাটারের কণাগুলোর মধ্যে একধরনের অনুনাদ বা রেজোন্যান্স তৈরি হয়, যা তাদের একটি নির্দিষ্ট বিন্যাসে সাজিয়ে দেয়।
শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউ-দাই সাই, যিনি এই গবেষণার সহলেখক, বলেন, তাদের মডেলে ডার্ক ম্যাটার ‘ডার্ক ফোটন’ নামক এক কণার মাধ্যমে সাধারণ পদার্থের সঙ্গে অত্যন্ত মৃদুভাবে মিথস্ক্রিয়া করে। এই মিথস্ক্রিয়া আদি মহাবিশ্বে ডার্ক ম্যাটার তৈরির প্রক্রিয়াকে অনেক বেশি কার্যকর করে তুলেছিল। এর ফলে সাধারণ পদার্থের সঙ্গে সংযোগ দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও সঠিক পরিমাণে ডার্ক ম্যাটার উৎপন্ন হতে পেরেছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, দৃশ্যমান সাধারণ পদার্থ মহাবিশ্বের মোট ভরের মাত্র ৫ শতাংশ গঠন করে। বাকি ২৭ শতাংশ ডার্ক ম্যাটার এবং ৬৮ শতাংশ ডার্ক এনার্জি দখল করে আছে। ডার্ক ম্যাটার গ্যালাক্সির গঠন ও বিবর্তনে অদৃশ্য আঠার মতো কাজ করে।
গবেষকরা আরও জানান, ভূগর্ভস্থ শনাক্তকারী যন্ত্রের মাধ্যমে ইলেকট্রনের সূক্ষ্ম পরিবর্তন মেপে এই কণার উপস্থিতি খোঁজা সম্ভব। এছাড়া কণা ত্বরণযন্ত্রের মাধ্যমে ‘ডার্ক ফোটন’ তৈরি করে শক্তির ঘাটতি পরীক্ষা করা যেতে পারে। যদি সুনির্দিষ্ট ভরের বিন্যাসে এই সংকেত পাওয়া যায়, তাহলে তা পঞ্চম মাত্রার পরোক্ষ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন তারা। সূত্র: ডেইলি মেইল।




