অ্যাভোকাডো নিয়ে যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটাতে বাজারে এলো বিশেষ এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সমাধান। ৩১ জুলাই জাতীয় অ্যাভোকাডো দিবস সামনে রেখে বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাভোকাডোজ ফ্রম মেক্সিকো’ আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছে তাদের নিজস্ব এআইভিত্তিক উত্তর খোঁজার ইঞ্জিন ‘এভিও.এআই’-এর। তাজা ফলটির আগাগোড়া সবকিছু নিয়ে, বিশেষ করে রান্নাঘরে ব্যবহার, সংরক্ষণ পদ্ধতি, পুষ্টিমান এবং নানা রকম রেসিপি সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর দিতেই এই কাস্টম চ্যাটবটটি নকশা করা হয়েছে।

এতদিন ধরে প্রচলিত এআই প্লাটফর্মগুলোকে নিজেদের বিপণনে ব্যবহার করলেও, এবার অন্য সবাইকে পিছনে ফেলে কৃষিপণ্য খাতে নিজস্ব উত্তর ইঞ্জিন উন্মোচনের পথিকৃৎ হলো এই ব্র্যান্ড। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, এভিও.এআই-কে রান্নাঘরের একজন ‘সবজান্তা সহকারী’ হিসাবে কল্পনা করা হয়েছে। চ্যাটবটটি উন্মুক্ত ইন্টারনেট ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ না করে ব্র্যান্ডের নিজস্ব শিক্ষামূলক তথ্যভান্ডার থেকে উপযুক্ত জবাব দেবে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলভারো লুক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা সর্বদা ভবিষ্যতের পানে তাকিয়ে থেকেছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভক্তদের জন্য অপ্রত্যাশিত, আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা তৈরিতে আমরা বছরতিরেক ধরে কাজ করেছি; এভিও.এআই হলো তারই পরবর্তী ধাপ।’ তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘এটি শুধু বেশি অ্যাভোকাডো বিক্রির প্রয়াস নয়; বরং আপনার রান্নাঘরের জীবনকে সহজ ও সৃজনশীল করাই মূল উদ্দেশ্য।’ এই যন্ত্রণামুক্ত হাতিয়ারটিকে তাদের ডিজিটাল তালিকায় যুক্ত করার মাধ্যমে অ্যাভোকাডো সম্পর্কে ধারণা ও উপভোগের ধরনটি পুনর্নির্ধারণ করে খাতটিতে নেতৃত্ব অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

প্রকল্পটির পেছনে থাকা টেক্সাসভিত্তিক সংস্থা ২৭০বি-এর প্রধান নির্বাহী ক্রিশ্চিয়ান বোটিনি জানিয়েছেন, এটি এমন এক নজিরবিহীন সৃষ্টি যা শুধুমাত্র একটি একক কৃষিপণ্যের জন্য নিবেদিত। প্রযুক্তিটি প্রকৃত সংলাপের উপযোগী করে বানানো হয়েছে, যাতে তা ভোক্তার জিজ্ঞাসার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে সহায়ক ও আলাপচারিতাধর্মী জবাব দিতে পারে। ব্র্যান্ড-অনুমোদিত ভেক্টর ডাটাবেজের ওপর এআই-কে ভিত্তি করায় এটি একটি অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য ‘পণ্য বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সনাতন পত্রপত্রিকার নিবন্ধ বা ব্লগের তথ্যের বদলে এভিও.এআই সরাসরি ব্র্যান্ডের দেওয়া পরামর্শ প্রদান করে। এর ফলে, অন্যান্য এআই অনুসন্ধানে প্রায়ই যে খারাপ উপদেশ বা তথ্যহীন নিবন্ধ এসে পড়ে, সেই সমস্যা এড়ানো যায়।

জনসাধারণের জন্য বিনামূল্যে ব্যবহার্য হলেও, এই টুল ব্র্যান্ডের জন্য বেশ কিছু মূল্য বহন করে আনে, আর তা হলো তথ্যভাণ্ডার। ভোক্তাদের জিজ্ঞাসার যে তথ্য জমা হয় তা থেকে সংস্থাটি বিদ্যমান এবং সম্ভাবনাময় ক্রেতাদের জন্য নিজস্ব বিপণন কৌশল ঢেলে সাজাতে পারে। তাছাড়া এই তথ্য ভবিষ্যতের কন্টেন্ট তৈরি দিকেও পথ দেখাতে পারবে।

অভ্যাসগত অ্যাভোকাডো ভক্তদের কাছে খুব পরিচিত কিছু নমুনা প্রশ্নও রয়েছে এভিও.এআই-এর জন্য, যেমন গুয়াকামোল তৈরির পদ্ধতি, কেটে রাখা অ্যাভোকাডোর পচন রোধের উপায়, এবং সবচেয়ে নিরাপদে কীভাবে অ্যাভোকাডোর বীজ ছাড়ানো যায়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, আমেরিকানদের খাদ্যাভ্যাসে অ্যাভোকাডোর ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে। ২০০০ সালের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই ফলের ব্যবহার তিনগুণ বেড়েছে। বর্তমানে দেশটি বছরে ৩০০ কোটিরও বেশি পাউন্ড অ্যাভোকাডো গ্রাস করে। এর ফলে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এই ফলের আবাদ, সংগ্রহ এবং পরিবহনে বিপুল সম্পদ বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়।

একটি অ্যাভোকাডো ফলাতে কতটুকু পানি লাগে, এ প্রশ্নের উত্তরে কিছুটা ধোঁয়াশাপূর্ণ তথ্য দেয় এভিও.এআই। এর উত্তর ছিল, ‘ছোট্ট উত্তর হলো, কোনো একক সার্বজনীন সংখ্যা নেই।’ জলবায়ু, বাগানটি বৃষ্টিনির্ভর নাকি সেচকৃত, গাছের দূরত্ব ও ফলনের ওপর পানির প্রয়োজন নির্ভর করবে বলে জানায় প্ল্যাটফর্মটি। অ্যাভোকাডো উৎপাদনে বিখ্যাত মিচোয়াকান অঞলে বাগানের ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে একটি ফলে ১৪৫ থেকে ২১৭ গ্যালন বা সর্বোচ্চ ঘনত্বের বাগানের জন্য মাত্র ৩৯ থেকে ৫ গ্যালন পানি খরচ হতে পারে বলে উল্লেখ করে চ্যাটবট। তবুও, বিশেষ করে যখন মেক্সিকো ব্যাপক খরার মুখোমুখি, তখন এটি যথেষ্ট পরিমাণ পানির ব্যবহার বলেই মনে হয়।

যদিও এআই-এর পানি ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই, তবে সকল এআই মডেলই ডাটা সেন্টারের মাধ্যমে পানি ব্যবহার করে। ২০২৪ সালের বার্কলে ল্যাবের একটি প্রতিবেদনে ২০২৩ সালে সকল মার্কিন ডাটা সেন্টার প্রায় ১,৭৪০ কোটি গ্যালার পানি খরচ করেছে বলে ধারণা করা হয়েছে, এবং ২০২৮ সালের মধ্যে তা বেড়ে ১,৬০০ থেকে ৩,৩০০ কোটি গ্যালন হতে পারে। এই পানির পরিমাণ বিশাল, যা দিয়ে বিপুল পরিমাণ অ্যাভোকাডো ফলানো যেত।