টেক জায়ান্ট অ্যালফাবেটের শেয়ারমূল্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে তাদের বহুল আলোচিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল জেমিনাই ৩.৫ প্রো-এর বাণিজ্যিক প্রকাশ বিলম্বিত হওয়ার খবর। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসার পর বাজারে এ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে অ্যালফাবেট এই মডেলটির কথা প্রথম প্রকাশ্যে আনে। ওই ঘোষণায় কোম্পানিটি জানিয়েছিল, জেমিনাই ৩.৫ প্রো বর্তমানে তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে বহির্বিশ্বের ব্যবহারকারী ও ডেভেলপারদের জন্য এটি পুরোপুরি প্রস্তুত হতে আরও কিছু সময় লাগবে। প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী মাস অর্থাৎ জুনের মধ্যেই এআই মডেলটির বিস্তৃত রোলআউট সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু সেই নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও জেমিনাই ৩.৫ প্রো এখনও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়নি। প্রকাশে এই অনিশ্চয়তা ও দেরি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যার প্রতিফলন ঘটেছে অ্যালফাবেটের শেয়ারদরে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতামূলক বাজারে গুগলের মূল কোম্পানিটির অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে তাদের ফ্ল্যাগশিপ মডেলের রোডম্যাপে কোনো ধরনের বিচ্যুতি বাজার সংবেদনশীলতাকে তীব্রভাবে প্রভাবিত করে।

প্রসঙ্গত, জেমিনাই সিরিজের এআই মডেলগুলো অ্যালফাবেটের জন্য অত্যন্ত কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার মধ্যে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে এবং ক্লাউড ও সার্চ ব্যবসায় নতুন মাত্রা যোগ করতে এই মডেলগুলোর সফল ও সময়োপযোগী প্রকাশ অপরিহার্য। ৩.৫ প্রো সংস্করণটিকে এ পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মডেল হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে, ফলে এটি নিয়ে প্রত্যাশাও ছিল তুঙ্গে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিলম্ব স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় চিড় ধরালেও অ্যালফাবেট সম্ভবত মডেলটির নিরাপত্তা, নির্ভুলতা ও পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতেই অতিরিক্ত সময় নিচ্ছে। দায়িত্বশীল এআই উন্নয়নের স্বার্থে এ ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। তবুও, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোম্পানিটির শেয়ারের উপর তাৎক্ষণিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।