খুলনার রূপসা উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়কটি এখন প্রায় অচল। সড়কের বেশিরভাগ অংশে পিচ নেই বললেই চলে, কোথাও মাটি বেরিয়ে গেছে, কোথাও বড় বড় গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে সেগুলো কাদায় পরিণত হয়েছে, ফলে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভ্যান বা অটোরিকশা নিয়ে এগোনো তো দূরের কথা, পথচারীদেরও মাঝপথে নেমে যেতে হচ্ছে। সড়কটির পাশেই বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ও বীর বিক্রম মহিবুল্লাহর সমাধি কমপ্লেক্স অবস্থিত। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বর্ষায় এই সড়কে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি রূপসা ফেরিঘাটের পূর্ব পার থেকে শুরু হয়ে চর রূপসা, বাগমারা হয়ে জাবুসা বাজারে গিয়ে শেষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন কিলোমিটার এখনও কাঁচা। ওরিয়ন পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে রূপসা সেতুর নিচ দিয়ে রূপসা ফেরিঘাট পর্যন্ত চার কিলোমিটার পাকা অংশটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং এই অংশটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ২০১৭ সালে এ অংশে সামান্য সংস্কার করা হয়েছিল, তারপর আর কোনো কাজ হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় দুই যুগ আগে সড়কটি নির্মিত হয়েছিল।

বর্তমানে সড়কটির দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিল্প-কারখানা, যার ফলে ভারী যানবাহনের চাপ বেড়েছে বহুগুণ। সার, বালু, পাথর ও কয়লাবোঝাই ১০ চাকার ট্রাকসহ বিভিন্ন ভারী যান চলাচল করে প্রতিদিন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নীতিমালা অনুযায়ী, এ সড়কটি 'গ্রামীণ সড়ক-এ' শ্রেণিভুক্ত, যেখানে সর্বোচ্চ ২০ টন ভার বহনের ক্ষমতা থাকে। কিন্তু বাস্তবে এই সড়কে ৫০ টন পর্যন্ত ভারী যান চলাচল করায় এটি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে পড়ে না।

সড়কটি ঘিরে রয়েছে চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণের অন্তত ১৭টি কারখানা, বরফকল, অসংখ্য মাছের ডিপো, তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোস্টগার্ড ক্যাম্প, পুলিশ ক্যাম্পসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। চর রূপসা, বাগমারা ও জাবুসা এলাকার মানুষ এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের অন্তত তিন হাজার শ্রমিক প্রতিদিন এই সড়কে যাতায়াত করেন। প্রতিদিন অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির বেশিরভাগ জায়গায় পিচের চিহ্ন নেই, খোয়া উঠে গেছে, প্রথম দেখায় অনেক অংশকে কাঁচা রাস্তা বলে মনে হয়। নানা জায়গায় জমে আছে কাদাপানি। এরপরও ভাঙাচোরা অংশ দিয়ে বালু, পাথর, সারসহ পণ্যবোঝাই ট্রাক ও ডাম্পার চলাচল করছে। স্থানীয় বাসিন্দা আল মাহমুদ বলেন, মাঝে মাঝে স্থানীয় লোকজন নিজ উদ্যোগে সড়কের কিছু অংশ সংস্কার করেন। তবে এখন কোথাও কোথাও খালের মতো গর্ত হয়ে গেছে, মনে হয় সেখানে মাছ চাষ করা যাবে। ভ্যানচালক আবু হানিফ বলেন, 'আমাগো কষ্টের শেষ নাই। ঠেইলে-গুতাইয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করলিও মাঝখানে যাত্রীদের নাইমে যাইতি হয়।'

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপেই সড়কটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছোট-খাটো সংস্কারে এর স্থায়ী সমাধান হবে না। ধারণক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে আরসিসি রাস্তা নির্মাণ করা প্রয়োজন। গত জুন মাসে সড়কটির প্রায় চার কিলোমিটার সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ৯ কোটি টাকার প্রাক্কলন তৈরি করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তা ফেরত এসেছে। রূপসা উপজেলা প্রকৌশলী মো. নাজমুল হুদা জানান, ভালোভাবে সড়ক সংস্কার করতে প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা খরচ হবে, কিন্তু এলজিইডির ওই প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারে সর্বোচ্চ ৯০ লাখ টাকা ব্যয় করা যায়। তাই প্রাক্কলনটি ফেরত এসেছে। বিশেষ বরাদ্দ ছাড়া সড়কটির সংস্কার সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।