বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাইক্লিং প্রতিযোগিতা ট্যুর দ্য ফ্রঁন্সের ইতিহাস ১১৯ বছরের পুরনো। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে নারী সাইক্লিস্টরা পুরুষদের সমতুল্য একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ পাওয়ার জন্য ক্রমাগত সংগ্রাম করে গেছেন। পঞ্চম ট্যুর দ্য ফ্রঁন্স ফেম বা নারীদের ট্যুর দ্য ফ্রঁন্স এই বঞ্চনার ইতিহাসকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরুষদের প্রতিযোগিতার সুবিশাল জনপ্রিয়তা ও অর্থনৈতিক সাফল্যের পাশে দাঁড়িয়েও নারীদের ইভেন্টটি ছিল প্রায় অদৃশ্য। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে নারী সাইক্লিস্টদের পেশাদার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ সুপরিকল্পিতভাবে সীমিত রাখা হয়েছিল। এই বিলম্বের পেছনে ছিল ক্রীড়া প্রশাসনের উদাসীনতা, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং একটি গভীর—উপবিষ্ট ধারণা যে নারীদের জন্য দীর্ঘ দূরত্বের সাইক্লিং উপযোগী নয়।

সমালোচকদের মতে, পুরনো আমলের আয়োজকরা নারীদের অংশগ্রহণকে কখনোই গুরুত্বের সাথে নেননি। ফলে প্রতিভা থাকার পরও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নারী সাইক্লিস্টরা মূল্যায়ন বঞ্চিত হয়েছেন। ১৯০৩ সালে পুরুষদের ট্যুর দ্য ফ্রন্স শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ নারী আসর আয়োজিত হয়নি।

বর্তমানে নারী সাইক্লিংয়ের জনপ্রিয়তা ও বাণিজ্যিক মূল্য ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেলেও, সংগঠকদের দীর্ঘ দিনের অনীহার কারণে সৃষ্ট ক্ষতি পূরণ হতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পঞ্চম ট্যুর দ্য ফ্রঁন্স ফেমে এই বৈষম্যের প্রতীকী অবসান ঘটিয়ে একটি নয়া অধ্যায়ের সূচনা করেছে।