যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ জানিয়েছেন, তিনি প্রজনন চিকিৎসার অংশ হিসেবে নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রোববার (৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি এই প্রক্রিয়ার শুরুর দিকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সেখানে দেখা যায়, তিনি একটি ইনজেকশন নিচ্ছেন এবং চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপ বর্ণনা করছেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর এবিসি নিউজের 'দিস উইক' অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা তিনি 'পুরোপুরি নাকচ করছেন না'।
সাক্ষাৎকারে ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, ডিম্বাণু সংরক্ষণের খরচ, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা কেমনভাবে দেওয়া হয় — এসব বিষয়ে মানুষের মধ্যে আলোচনা হওয়াকে 'স্বাভাবিক' করে তুলতে চান তিনি। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্যমতে, বর্তমান প্রশাসন দেশজুড়ে নারীদের প্রজননস্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত করছে — গর্ভপাতের অধিকার থেকে শুরু করে সুস্থভাবে গর্ভধারণ ও সন্তান জন্ম দেওয়ার সুযোগ পর্যন্ত। নেতৃত্বের অবস্থানে থেকে এসব বিষয়ে কথা বলা এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা ও প্রক্রিয়াগত তথ্য ভাগ করে নেওয়াকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
এর আগে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার ক্ষেত্রে 'রাজনৈতিক ঝুঁকি' থাকলেও তিনি তথ্যটি সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চেয়েছেন। সম্প্রতি এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মানুষের পছন্দের তালিকায় ওকাসিও-কর্টেজ রয়েছেন। প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে হেসে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং বলেন, বর্তমানে তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। তবে একাধিকবার প্রশ্নের চাপে তিনি স্বীকার করেন, তিনি এই সম্ভাবনা নাকচ করেননি। বাইরে থেকে বিপুল সমর্থন পাওয়ায় তিনি অভিভূত ও কৃতজ্ঞ বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দায়িত্ব হলো মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে মনোযোগ ধরে রাখা, নিজেদের ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকে নয়। সিনেট নির্বাচনে শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'সবকিছুই সম্ভব।' উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি দুই বছর পর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং এবারের নির্বাচন নভেম্বরের শুরুতে। এতে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হবে।




