আমাদের চারপাশে উদ্ভিদজগতে নিয়মিত ঘটে নানা পরিবর্তন। পুরোনো পাতা ঝরে পড়ে, নতুন পাতা গজায়, ফুল ফোটে ও পরে ফল ধরে। তবে কিছু ব্যতিক্রমী ফুল রয়েছে যা সময়ের সাথে নিজেদের রং বদলায়। এমন দুই ফুল হলো উলটচণ্ডাল (Gloriosa superba) ও ব্রুনफेल्सिया (Brunfelsia calycina)। প্রথমটি মূলত বাংলাদেশ ও ভারতে প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়, অন্যদিকে দ্বিতীয়টি দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল থেকে আনা হয়েছে। উলটচণ্ডাল একটি লতানো উদ্ভিদ, যার পাতা লম্বা ও বোঁটাহীন। এর ফুল গ্রীষ্মের শেষ ও বর্ষায় ফোটে, প্রথমে হলুদ হয় এবং পরে কমলা বা লালচে হয়ে যায়। পাপড়ির কিনারা কুঁচকানো ও উপরের দিকে ওলটানো থাকে। এই গাছের ঔষধি গুণ রয়েছে এবং এটি বর্তমানে বিপন্ন। প্রাকৃতিকভাবে এটি মধুপুর বন, উপকূলীয় অঞ্চল ও শালবনে দেখা যায়, তবে আবাসস্থল হারানোর কারণে এখন সংখ্যায় কম। ব্রুনफेल्सিয়া একটি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ, যার ডালপালা প্রচুর। এটি এক থেকে দুই মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। পাতাগুলো মসৃণ ও গাঢ় সবুজ, সাধারণত তিন থেকে ছয় সেন্টিমিটার লম্বা। শীতের শেষে গাছের সব পাতা ঝরে যায়, এবং গ্রীষ্মে পাতাহীন গাছেই ফুল ফোটে। ফুল প্রথমে বেগুনি হয়, কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে সাদা রঙ ধারণ করে। একই গাছে দুই রঙের ফুল দেখতে পাওয়া যায়, যার কারণে কেউ কেউ একে 'সুষমা' নামেও ডাকেন। গ্রীষ্ম থেকে শরৎ পর্যন্ত প্রায় ছয় মাস গাছে ফুল ফোটে এবং এর স্নিগ্ধ সুবাস দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। উলটচণ্ডালের ফুল গন্ধহীন, তবে ব্রুনफेल्सিয়ার ফুল অত্যন্ত সুগন্ধি। দুটিই বাগান ও প্রকৃতিতে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। উলটচণ্ডাল বর্তমানে বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে, অন্যদিকে ব্রुनफेल्सিয়া দেশে সহজলভ্য ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।