গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী বিশেষ চেকপোস্ট বসায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় গোয়েন্দা শাখা। রোববার বিকেলে ময়মনসিংহ-শেরপুর সড়কের শম্ভুগঞ্জ মোড় এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। একটি ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে চারজন ব্যক্তিকে আটক করে অধিদপ্তরের টিম।

আটক ব্যক্তিরা হলেন কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী থানাধীন চর নতুন বন্দর গ্রামের রকিব হাসান (৩৮), তার স্ত্রী শান্তি খাতুন (৩৩), তাদের সন্তান সাকিব আল হাসান (২২) এবং পুত্রের সহধর্মিণী ফারজানা আক্তার ওরফে ফরিদা (১৯)। উল্লেখ্য, মা ও ছেলের মধ্যে বয়সের পার্থক্য মাত্র ১১ বছর।

তল্লাশির সময় রকিব হাসানের পরনের প্যান্টের ভেতরে দেহের সঙ্গে পেঁচানো অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাওয়া যায়। অন্যদিকে, সাকিব আল হাসানের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগের ভিতর রাখা ফ্রিজের স্ট্যাবিলাইজারের বিশেষ কুঠুরি থেকে বাকি ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মোট জব্দ করা ইয়াবাগুলোর পরিমাণ ১৮ হাজার ৪২০টি। এছাড়া তাদের হেফাজত থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও মাদক বিক্রয়ের ১৫ হাজার ৩০০ টাকা জব্দ করা হয়।

অভিযান শেষে রাতেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা নথিভুক্ত করেন। সোমবার চার আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ।

অধিদপ্তর জানায়, আটক পরিবারটির মূল কার্যক্রম ছিল কুড়িগ্রামের ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ইয়াবা সংগ্রহ করে ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় সরবরাহ করা। গতকালের চালানের একটি অংশ নেত্রকোনার এক গ্রাহকের কাছে শম্ভুগঞ্জেই হস্তান্তরের পরিকল্পনা ছিল। তারা গাজীপুরে ভাড়া বাসা নিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাওসারুল হাসান (রনি) বলেন, পুরো পরিবারটিই মাদক চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত। গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হওয়ার কারণেই এই ধরনের বড় চালান ধরা সম্ভব হচ্ছে। মা ও ছেলের বয়সের ব্যবধান কম হওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাদের নিজেদের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ীই বয়সসীমা উল্লেখ করা হয়েছে।