ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৪ সালে। দীর্ঘ ২২ বছর পর সেখানে আবার একটি টেস্ট শুরু হতে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ২২ গজের আচরণ কেমন হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয়। মারারার পিচ বেশ শক্ত এবং বাউন্স সুষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোদ উঠলে পেসারদের জন্য সুইং ও মুভমেন্টের সুবিধা বাড়তে পারে, আর পরবর্তী সময়ে স্পিনাররাও সহায়তা পাবেন। তবে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু নতুন বলে অস্ট্রেলিয়ার পেস অ্যাটাকের মোকাবিলা করা।
অস্ট্রেলিয়ার তেরো সদস্যের স্কোয়াডে চার পেসার রয়েছেন—মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও স্কট বোল্যান্ড। এই চতুষ্টয়ের মধ্যে বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি কে হতে পারেন? সকলেরই পর্যাপ্ত সামর্থ্য রয়েছে। গতি, বাউন্স ও সুইংয়ের মোকাবিলায় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আলাদা করে কৌশল প্রস্তুত রাখতে হবে। তবুও যদি জিজ্ঞাসা করা হয় এদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভয়ংকর, তাহলে সন্দেহের অবকাশ নেই—নামটি মিচেল স্টার্ক। পরিসংখ্যান দিয়েও বিষয়টি প্রমাণ করা যায়। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭ ম্যাচে ১৩টি উইকেট এই স্কোয়াডের পেসারদের মধ্যে সর্বাধিক। যদিও তার কোনোটিই টেস্টে নয়, সবগুলোই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে।
বয়স ৩৬ পেরিয়ে গেলেও স্টার্কের মুখোমুখি হওয়া যে কোনো ব্যাটসম্যানের জন্য অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা। ১০৫ টেস্টে তাঁর সংগ্রহ ৪৩৩ উইকেট, যা তাকে সর্বকালের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় ১২তম অবস্থানে রাখে। মাত্র ৭টি উইকেট নিলেই তিনি ছাড়িয়ে যাবেন ডেল স্টেইনকে। শুধু পেসারদের তালিকায় তখন তিনি উঠে আসবেন পাঁচ নম্বরে। স্টার্কের জন্য এ কাজ কঠিন কিছু নয়, বিশেষ করে ২০২৫ সালের পারফরম্যান্সের বিচারে, যেখানে ১১ টেস্টের ৫৫টি উইকেট নিয়ে তিনি ছিলেন শীর্ষস্থানীয়।
যে বয়সে এসে পেসারদের গতি ও ধার কমার কথা, স্টার্ক সেখানে যেন আরও ধারালো হয়ে উঠেছেন। এর রহস্য কি? অস্ট্রেলিয়ার বার্তা সংস্থা এএপির সঙ্গে আলাপকালে স্টার্ক নিজেই জানান, ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পর্বে সুসংগঠিত পেস অ্যাটাকের অংশ হওয়া এবং কুকাবুরা বলে 'ওবল সিমের' কার্যকর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি এসেছে তার মানসিকতায়। তিনি বলেন, ‘আসল বিষয় হলো যা হয়ে গেছে, তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলা। আপনি কখনোই ততটা ভালো বা খারাপ নন, যতটা আপনি নিজে ভাবেন বা অন্যরা ভাবে। কোনো কিছু ভুল হলে আমি এখনও খুঁতখুঁত করি।’
দীর্ঘদিন ধরে খেলার কারণ হিসেবে তিনি নতুন কিছু শেখা, নিজের উন্নতি এবং সবকিছুকে প্রতিনিয়ত শাণিয়ে নেওয়ার অভ্যেসের কথা উল্লেখ করেন। এর সঙ্গে ওবল সিমের ব্যবহার ও লাইন-লেংথের ধারাবাহিকতা যুক্ত হয়েছে। 'এখন পুরো বিষয়টি নিয়ে আমার ভাবনা বেশ পরিষ্কার', যোগ করেন স্টার্ক। অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের মধ্যে ৩৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর গ্লেন ম্যাকগ্রা ছাড়া আর কেউ তাঁর চেয়ে বেশি উইকেট পাননি। গত গ্রীষ্মে অ্যাশেজে ৪-১ জয়ের সিরিজেও ১০ ইনিংসে ৩১ উইকেট নেওয়া স্টার্কের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো।
ডেল স্টেইনকে অতিক্রম করলে জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড, গ্লেন ম্যাকগ্রা ও কোর্টনি ওয়ালশের মতো কিংবদন্তিদের পরেই অবস্থান হবে তার। এ প্রসঙ্গে প্রথমে মজার ছলে স্টার্ক বললেন, 'এর মানে আমি বেশ কিছুদিন ক্রিকেট খেলে ফেলেছি। তবে সেইসব কিংবদন্তিদের পাশে নিজের নাম উচ্চারিত হওয়া দারুণ এবং অত্যন্ত গর্বের বিষয়।'
এভাবেই বাংলাদেশ সিরিজের আগে আত্মবিশ্বাসী স্টার্ক নিজের রহস্য উদঘাটন করলেন এবং নতুন মাইলফলকের হাতছানিতে বডি় প্রত্যয়ী।

