স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসের পর্দা নামার পর বেশ কয়েকজন ক্রীড়াবিদের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। নির্ধারিত ফ্লাইট ধরে দেশে ফেরার পরিবর্তে উগান্ডা ও পাকিস্তানের অন্তত পাঁচজন অ্যাথলেটের অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্কটল্যান্ড পুলিশ।
ক্রীড়াবিষয়ক ওয়েবসাইট এনবিএস স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উগান্ডা বক্সিং দলের চার সদস্য নুহু বাত্তে, অ্যাঞ্জেল কাটুশাবে, ইব্রাহিম কেমিস ও এমিলি নাকালেমা নিজ দেশের ফ্লাইট ধরেননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের একজন সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, তারা স্কটল্যান্ডেই রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করার পরিকল্পনা করছেন। আশ্রয় নেওয়ার কারণ হিসেবে ওই বক্সার নিজ দেশের তুলনায় যুক্তরাজ্যে উন্নততর প্রশিক্ষণ ও জীবনযাপনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। পাশাপাশি, উগান্ডার জনগণের কাছে তাদের এই সিদ্ধান্তকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম পাকিস্তান টুডে জানাচ্ছে, দেশটির বক্সার কুদরাতউল্লাহও দলের সাথে দেশে ফেরেননি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের ক্রীড়া কর্মকর্তারা হোটেল কক্ষে গিয়ে তাঁকে আর খুঁজে পাননি।
স্কটল্যান্ড পুলিশের একজন মুখপাত্র বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছেন, “বেশ কিছু অ্যাথলেট নিখোঁজ রয়েছে বলে আমরা রিপোর্ট পেয়েছি। পুরো পরিস্থিতি যাচাই করে দেখতে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে প্রাথমিক সমন্বয়ও শুরু হয়েছে।” গ্লাসগো ২০২৬-এর মুখপাত্র সোফি অ্যাশক্রফট জোর দিয়ে বলেছেন, তারা পুলিশ স্কটল্যান্ড, বর্ডার ফোর্স ও ইউকে ভিসা অ্যান্ড ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন যেন গত দুই সপ্তাহ ধরে ৭৪টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ৩ হাজার অথলিটের মধ্যে যারা অংশ নিয়েছেন, সকলেই ইভেন্ট শেষে নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিয়াসূচি শেষে এমনভাবে অ্যাথলেটদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা অতীতেও কমনওয়েলথ গেমসে দেখা গিয়েছে। ২০১৪ সালের গ্লাসগো আসরের পরও একাধিক ক্রেবরাবিদ চোখের আড়াল হয়েছিলেন। সে বার উগান্ডার দুজন রাগবি খেলোয়াড় নিখোঁজ হন, যাদের পরবর্তী সময়ে কার্ডিফের একটি স্থানীয় ক্লাবের হয়ে খেলতে দেখা যায়। তাদের একজনের নাম ফিলিপ প্যারিও, যিনি পরে ধর্ষণকায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে চার সাড়ে চার বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। একই আসরে ক্যামেরুন থেকে এসে নিখোঁজ হওয়া ভারোত্তোলক সিরিল চ্যাচেট পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে একটি রৌপ্য পদকও জয় করেন।




