কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ অভিযানের অন্যতম প্রধান নায়ক, গোলকিপার ভোজিনিয়ার জন্য নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শ্যাভেজ ছেড়ে তিনি এখন চিলির সবচেয়ে সফল ফুটবল ক্লাব কোলো কোলোর সদস্য। গত সোমবার এই চিলিয়ান শীর্ষ লিগের দলটির সাথে ছয় মাসের চুক্তিতে সই করেন তিনি। পরের দিনই একটি জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে নতুন খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে রোববার সান্তিয়াগো বিমানবন্দরে পৌঁছালে কোলো কোলোর সমর্থকরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। দুই দিনের ব্যবধানে তিনি নতুন সতীর্থদের সাথে অনুশীলনেও যোগ দেন।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ভোজিনিয়া জানান, তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারের বড় অংশ কেটেছে স্লোভাকিয়া, অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা, সাইপ্রাস ও পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের মতো ছোট ক্লাব ও নিচের সারির লিগে। তবে সব সময় তার মনে বিশ্বাস ছিল যে একদিন বড় মঞ্চ থেকে ডাক আসবে। কোলো কোলোর প্রস্তাব পেয়ে তিনি কোনো দ্বিধা করেননি বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ছোট লিগ বা কম পরিচিত ক্লাবে খেললেও আমি জানতাম আমি বড় ক্লাবের খেলোয়াড়। কোলো কোলো যখন প্রস্তাব দিল, আমি জানতাম এটাই আমার গন্তব্য। বিশ্বকাপ আমার ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত, তবে সেটা এখন অতীত। এত বড় ও ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে আসতে পারা আমার ক্লাব ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন।’

ভোজিনিয়ার পূর্ণ নাম জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস। চিলির ফুটবল লিগের নিয়ম অনুযায়ী খেলোয়াড়দের জার্সিতে ডাকনাম ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে কোলো কোলো চিলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে নিয়েছে, যাতে তিনি ‘ভোজিনিয়া’ নামেই মাঠে নামতে পারেন। পর্তুগিজ ভাষায় এই নামের অর্থ ‘ছোট দাদি’। নামটি নিয়ে আবেগঘন হয়ে তিনি বলেন, ‘সারা জীবন এই নামেই খেলেছি, এর পেছনে একটি ইতিহাস আছে। বিশ্বজুড়ে এখন নামটি ছড়িয়ে পড়েছে। আমার দাদি বেঁচে থাকলে খুব গর্বিত হতেন। ক্যারিয়ারের বাকি সময়টা তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে এই নামেই খেলে যেতে চাই।’ উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের পর ভোজিনিয়াকে সম্মান জানিয়ে সামুদ্রিক শামুকের একটি নতুন প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে তাঁর নামে।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে স্পেনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ড্র করে কেপ ভার্দে প্রথম পয়েন্ট অর্জন করে। তারপর থেকেই আলোচনায় আসেন ভোজিনিয়া। শেষ ৩২-এ ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে টেনে নিয়ে যান তিনি। তার অসাধারণ পারফরম্যান্স তাঁকে ফিফার সেরা একাদশে স্থান করে দেয়। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার, যা এখন প্রায় তিন কোটিতে পৌঁছেছে। ট্রান্সফারমার্কেটে তার বাজারমূল্য ৯০০ শতাংশ বেড়ে গেছে।