ময়মনসিংহে পারিবারিক কলহের জেরে এক তরুণ অটোরিকশাচালককে ছুরিকাঘাতে হত্যার মামলায় তাঁর শ্বশুর ও শ্যালককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার তুরাগ এলাকায় পরিচালিত একটি যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নিহত শিবলু মিয়ার (২২) শ্বশুর আবু সাঈদ (৪৫) ও শ্যালক মো. ফাহিম (২০)। তারা ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের সুহেলী গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাব-১৪ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পটভূমিতে ছিল একটি প্রেমের সম্পর্ক। শিবলু মিয়ার সঙ্গে আবু সাঈদের মেয়ে মিম আক্তারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং প্রায় এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহ শুরু হয়। মিম যখন বাবার বাড়িতে যেতেন, তখন তাকে স্বামীর সংসারে ফিরতে দেওয়া হতো না। এই বিরোধের জেরে একপর্যায়ে শিবলু শ্বশুরবাড়িতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। পরে তিনি স্ত্রীকে মৌখিকভাবে তালাক দেওয়ার কথা জানান।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১৭ অক্টোবর বিকেলে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার উত্তর দাপুনিয়া সেলফি রোড এলাকায় বসে ছিলেন শিবলু। হঠাৎ কয়েকজন এসে তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই বছরের ১৯ অক্টোবর শিবলুর মা বাদী হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে ছিলেন।
র্যাব-১৪–এর ময়মনসিংহ সদর কোম্পানির অধিনায়ক মেজর মীর ইশতিয়াক আমিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৪ ও র্যাব-১-এর যৌথ অভিযানে ঢাকার তুরাগ এলাকা থেকে মামলার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তাদের পরে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।




