বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর এক সাত বছর বয়সী শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার বড়ইচড়া গ্রামের একটি ধানখেত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশুটির নাম রাজু (৭), সে ররোয়া গ্রামের মো. আলমের ছেলে। গত মঙ্গলবার থেকে সে নিখোঁজ ছিল। শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে মো. মুস্তাকিন নামে এক ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত একটি ভ্যানে করে রাজুকে নিয়ে যায়, এরপর তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি। এই ঘটনায় গত বুধবার শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পরিবারটি। লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মুস্তাকিনের (২৪) বাড়িতে হামলা চালায়, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ উপস্থিত ছিলেন না, ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানান, আজ দুপুরে মুস্তাকিন ও করিম নামে অপর একজনকে থানায় ডেকে আনা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, ভ্যানটি চুরি করার পরিকল্পনা থেকে শিশুটিকে সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল। পরে এই বিষয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা রাজুকে হত্যা করে। মুস্তাকিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকেলে তাড়াশের ধানখেত থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিকাশ চক্রবর্তী জানান, আটক করিমের শ্বশুরবাড়ি ওই এলাকায়। সেখান থেকে চুরি হওয়া ভ্যানটি (খোলা অবস্থায়) উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির বাঁ পায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হত্যার পেছনে আর কী কী কারণ থাকতে পারে তা খতিয়ে দেখা হবে। এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।