মেহেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুম শেখ আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক রায়ে অনলাইন গেম নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বন্ধু হত্যার দায়ে দুই কিশোরকে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। এক কিশোর (১৫) ১০ বছর এবং অপর কিশোর (১৪) ৭ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছে। পাশাপাশি তাদের উপর ১৫ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাসিন্দা।

আদালত ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, একই এলাকার তিন বন্ধু একসঙ্গে মুঠোফোনে ‘ফ্রি ফায়ার’ গেম খেলত। হত্যাকাণ্ডের শিকার কিশোর তার গেমের আইডিতে কয়েক হাজার টাকা খরচ করে বিশেষ সুবিধা (প্রিমিয়াম ফিচার) চালু করেছিল। টাকার অভাবে বাকি দুই বন্ধু সেই সুবিধা নিতে না পেরে তার কাছ থেকে আইডিটি নিজেদের ব্যবহারের জন্য চাইলে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৬ জুন দুই কিশোর তাদের বন্ধুকে বাড়ি থেকে কৌশলে একটি নির্জন স্থানে ডেকে নেয়। বের হওয়ার সময় সে তার মায়ের মুঠোফোনটিও সঙ্গে নেয়। সেখানে গিয়ে তার ফোন ও গেমের আইডি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই কিশোর তাদের বন্ধুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য ওই দিন সন্ধ্যায় নিহত কিশোরের বাবা মালয়েশিয়াপ্রবাসী আসাদুজ্জামানের কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি আসাদুজ্জামান স্বজন ও পুলিশকে জানান।

পুলিশ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই কিশোরকে আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এলাকার একটি মাঠ থেকে ওই কিশোরের মাটি চাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরদিন রাতে নিহত কিশোরের মা রোজিনা খাতুন গাংনী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আজ এই রায় দেন।

রায়ে এক কিশোরকে (১৫) ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং অপর কিশোরকে (১৪) ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ আদায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত কিশোরদের পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে নিহত কিশোরের পরিবারকে অর্থ দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।