স্পেন বিশ্বকাপ জিতলে নিজের মাথার সব চুল কামিয়ে ফেলবেন—এই অঙ্গীকার করেছিলেন ফেরান তোরেস। ক্যামেরার সামনে সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর স্পেন শিরোপাও জেতে। কিন্তু শিরোপা জয়ের পরদিন সাফোয়েলা প্রাসাদে রাজপরিবারের সংবর্ধনায় তোরেসকে দেখা যায় আগের মতোই চুল নিয়ে, যেন কোনো অঙ্গীকারই ছিল না।
প্রিন্সেস লেওনর অবশ্য এই বিষয়টি ভুলে যাননি। রাজপরিবারের সামনে তিনি সরাসরি তোরেসকে প্রশ্ন করেন, 'তুমি না বলেছিলে মাথা কামাবে?' এই প্রশ্নে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে তোরেস সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, 'না, না।' ঘটনার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
কয়েক সপ্তাহ পর নিজের শহর ফইওসে ফিরে তোরেসের আর এড়ানোর সুযোগ ছিল না। সেখানে আয়োজিত সংবর্ধনায় উপস্থাপক মানোলো মাস প্রসঙ্গটি তোলেন এবং বলেন, 'শুনেছি প্রিন্সেস লেওনর আপনাকে কিছু একটা বলেছিলেন।' উপস্থিত জনতা তখন হর্ষধ্বনি দিয়ে ওঠে। তোরেস তখন বলটি দর্শকদের দিকে ছুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন—তিনি বলেন, 'এই প্রশ্নের উত্তর আমার না দেওয়াই ভালো। আপনাদেরই জিজ্ঞেস করুন, আমি চুল কামাই কি না।'
ফইওসের জনতা একযোগে 'হ্যাঁ' বলে সায় দেয়। কিন্তু তোরেস তখন জানান, 'চুল কাটা সম্ভব না, কারণ আমার দাদি নিষেধ করেছেন।' এই এক বাক্যেই যেন আলোচনার অবসান ঘটে।
তোরেস অবশ্য একা নন, যিনি বিশ্বকাপ জয়ের শর্তে অদ্ভুত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তিনিই একমাত্র যিনি এখনও কথা রাখেননি। মার্ক কুকুরেয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, স্পেন চ্যাম্পিয়ন হলে তিনি কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের মুখের উলকি নিজের বাহুতে আঁকাবেন। ট্রফি জেতার কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি সেই ট্যাটু করে ফেলেন। গাভি তার চুল গোলাপি রঙে রাঙান, আর পেদ্রি চুল সোনালি করেন। তিনজনই তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। একমাত্র তোরেসই ব্যতিক্রম।




