বিশ্বকাপের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেলেও নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানের জন্য। উয়েফা সুপার কাপে ফরাসি চ্যাম্পিয়ন পিএসজি ও ইংলিশ ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার মধ্যকার ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। উয়েফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ম্যাচে রেফারিং করার মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথম অ-ইউরোপীয় রেফারি হিসেবে নাম লেখাবেন আরতান।

অস্ট্রিয়ার সালজবুর্গ বিমানবন্দরে নামার পর থেকেই তাকে ঘিরে উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। অনুরাগীদের অনেকেই তার সাথে সেলফি তুলছেন, করমর্দন করছেন। মাস দুয়েক আগেও হয়তো কেউ ভাবতে পারেননি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ইউরোপ তাকে এতটা সাদরে গ্রহণ করবে। বিশ্বকাপের সময়ই আলোচনায় এসেছিলেন এই সোমালিয়ান রেফারি, তবে ভিসা না মেলায় বিশ্বকাপে রেফারিং করা হয়নি তার।

আরতানের গত দেড় বছর নানা ওঠাপড়ায় ভরা। আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল পরিচালনা করা প্রথম সোমালি তিনি। ২০২৫ সালে বর্ষসেরা আফ্রিকান রেফারির খেতাবও জিতেছেন। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধার মুখে পড়েন। তবে তার এই অর্জন যেন নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। উয়েফা এবং আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিএফ) মধ্যে এপ্রিলে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতেই এই নিয়োগ পেয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে আরতান বলেছেন, সময়টা বেশ কঠিন ছিল, অনেকেই সহানুভূতি দেখিয়েছেন। এত বছর পরিশ্রমের পর যখন কিছু করার সময় এসেছিল, তখনই তা করতে না পারা সত্যিই যন্ত্রণার। তবে বিশ্বজুড়ে যে সমর্থন পেয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞ। তিনি মনে করেন, এই উদ্যোগ দুই কনফেডারেশনের জন্য পারস্পরিক শিক্ষার সুযোগ। সিএফ রেফারিরা উয়েফা থেকে শিখতে পারবে, আবার উয়েফার রেফারিরাও সিএফ থেকে শিখতে পারবেন।

ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর মায়ের কাছ থেকেও দূরে বড় হয়েছেন আরতান। খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে না পেরে রেফারি হওয়ার স্বপ্ন বুনেছিলেন। পাড়ার মাঠ থেকে শুরু করে স্কুল ফুটবল, এরপর সোমালি লিগে কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক তালিকায় স্থান পান এবং ২০২৪ সালে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে রেফারিং করা প্রথম সোমালি হিসেবে নাম লেখান।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পরপরই উয়েফা সুপার কাপের দায়িত্ব পাওয়ার খবর পান তিনি। নিজের ও পরিবারের জন্য এটা সত্যিকারের আনন্দের মুহূর্ত বলছেন আরতান। ইউরোপ এবং অস্ট্রিয়ার সোমালি সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। সোমালিয়াতেও তাকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সোমালি লিগে খেলা পরিচালনা অব্যাহত রেখেছেন। জুনের শেষে কুয়েত প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচও সামলেছেন। দল বিশ্লেষণ ও খেলার ধরন বোঝার কাজও নিয়মিত করছেন তিনি। তরুণদের উদ্দেশে তার পরামর্শ, আমি যদি পারি, তবে যে কেউ পারবে। স্বপ্ন দেখা কখনো বন্ধ করবেন না। রেফারি হতে চাইলে সেটাই সবচেয়ে ভালো পথ। কেউ বাধা দিলেও থেমে যাবেন না। প্রতিদিন নতুন কিছু শিখে দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ তার।