দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট ও তার ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চার দফা সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি খাতের বিভিন্ন অংশীজনকে একত্র করে একটি ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল’ গঠন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার মধ্যে জরুরি ওয়ার্কওভার ও সংস্কারকাজের অনুমোদনের ক্ষমতা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের পরিচালনা পর্ষদকে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কবে বেজ লোড উৎপাদনে আসবে এবং এর ট্যারিফ কী হবে, তা দেশবাসীকে জানানো প্রয়োজন। তিনি জরুরি দরপত্র মূল্যায়নের জন্য একটি স্থায়ী মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর জন্য একক তদারকি ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান। কোন ফাইল কোথায় কত দিন আটকে আছে, সেই তথ্যও নিয়মিত প্রকাশের দাবি জানানো হয়।

মহেশখালী ও পায়রা এলাকায় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের যে ঘোষণা ছিল, তা আদৌ বাস্তবায়িত হয়েছে কি না, তা জনগণের জানা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। খুলনার খালিশপুরে রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শেষ হলেও বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ‘পরিকল্পনা দিন’ চ্যালেঞ্জের জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ২১ মে থেকেই পরিকল্পনা সরকারের কাছে রয়েছে। বিরোধী দলের ১০ দফা ও সংসদীয় বিশেষ কমিটির ১২ দফাকে ভিত্তি করে এখনই একটি যৌথ বাস্তবায়ন কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। সরকার, বিরোধী দল, পেট্রোবাংলা, বাপেক্স, বিপিডিবি, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী ও স্বাধীন জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনার ব্যবস্থা করার কথাও বলেন।

তিনি আরও বলেন, আগামী ৯০ দিন পর জাতীয় সংসদে অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হোক। কোন সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনটি হয়নি, গ্যাস উৎপাদন কত বেড়েছে, সিস্টেম লস কত কমেছে, কত অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে—জনগণ যেন সেই হিসাব দেখতে পারে। তাদের খসড়া প্রস্তাবেও ৯০ দিন পর অগ্রগতি প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন এবং বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে বিশেষ কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে।

সরকারের ব্যর্থতা কামনা করেন না উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি খাতে সরকার ব্যর্থ হলে শুধু সরকারই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, দেশ ও দেশের অর্থনীতিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও সমালোচনা থাকতে পারে, কিন্তু জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে সবার প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত কে বেশি কার্যকর সমাধান দিতে পারে, কে বেশি স্বচ্ছ থাকতে পারে এবং কে জনগণের কাছে বেশি জবাবদিহি করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাদের পরিকল্পনা সরকারের কাছেই রয়েছে, আজ আবারও তা সামনে রাখা হলো। এখন প্রশ্ন একটাই—বাস্তবায়ন শুরু হবে নাকি নতুন পরিকল্পনা ও নতুন কমিটির অপেক্ষায় থাকতে হবে। তারা ৯০ দিন পর হিসাব চাইবেন, তবে সরকারকে বিব্রত করার জন্য নয়, দেশের মানুষের পক্ষে। দেশের স্বার্থে সরকার যদি কোনো কার্যকর, স্বচ্ছ ও বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ নেয়, দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, আবদুল হালিম, হামিদুর রহমান আযাদ ও মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিমসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।