সখীপুর উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের হলুদিয়াচালা বাজারে স্থানীয় মানুষের নির্মিত একটি টিনের ঘর বন বিভাগ ভেঙে দেওয়াকে কেন্দ্র করে জমির মালিকানা নিয়ে চলমান দ্বন্দ্ব নতুন করে তীব্র হয়েছে। গত ৯ আগস্ট ভোরে ওই বাজারে প্রায় ৬০ হাত দৈর্ঘ্যের একটি টিনের ঘর গুঁড়িয়ে ফেলে বন বিভাগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে তারা ওই জমির মালিকানা অর্জন করেছেন। কিন্তু বন কর্তৃপক্ষ বলছে, জমিটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। আটিয়া বন-৮২ অধ্যাদেশকে ঘিরে সখীপুরের বিভিন্ন এলাকায় মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে বিরোধ চলছে, তারই ধারাবাহিকতায় এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করছেন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বেলা দুইটার দিকে উপজেলার হলুদিয়াচালা বাজারে জনসমক্ষে উপস্থিত হন টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি মাইকের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. নাজমুল আলমকে ফোন করেন। মন্ত্রী ডিএফওকে বলেন, বহেড়াতৈল রেঞ্জের অধীন হলুদিয়াচালায় স্থানীয়দের একটি টিনের ঘর ছিল। রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী দালালদের মাধ্যমে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ঘরটি নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ঘরটি কিছুটা সম্প্রসারিত হওয়ায় সেটি ভেঙে দেওয়া হয়। মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় ডিএফওকে নির্দেশ দেন, “সবার আগে আপনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই এমরানকে এখান থেকে ট্রান্সফার করবেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করবেন—এটা আপনার কাছে আমার অনুরোধ।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি যত দিন এমপি আছি, আমার এলাকার মানুষকে হয়রানি করতে দেব না।” এ সময় মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, “টাকা দিলে ঘর দিতে দেয়, বিল্ডিংও দিতে দেয়। টাকা না দিলে সঙ্গে সঙ্গে মামলা দিয়ে দেয়।”
এই অভিযোগের জবাবে রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেছেন। ঘর ভাঙার অভিযানে টাঙ্গাইলের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং তারা কেবল সহযোগিতা করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। “এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই। আমি যেখানেই যাব, বন রক্ষায় কাজ করব,”—এই ভাষায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি। পাশাপাশি ঘুষ ও দুর্নীতির সব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত’ বলে অভিহিত করেন এমরান। অন্যদিকে, টাঙ্গাইলের ডিএফও মো. নাজমুল আলমের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো কল ধরেননি বলে জানা গেছে।




