পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পূর্ববর্তী হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান রোববার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোই ছিল এই হামলার প্রধান লক্ষ্য। একইসঙ্গে তেহরান কর্তৃপক্ষ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।

সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটলেও রোববারের হামলা আগের যেকোনো ঘটনা থেকে অনেক বেশি মাত্রায় বিস্তৃত। এই হামলার পরিধি কাতার পর্যন্ত পৌঁছেছে, যে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছিল। গত এপ্রিলের পর কাতারে আর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো সফলভাবে প্রতিহত করতে পেরেছে। আমিরাতেও গত মে মাসের শুরুর পর আর কোনো হামলা হয়নি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও বেসামরিক জাহাজগুলোর ওপর ইরানের হামলার সক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিতে রোববার স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটা থেকে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন যে তারা ইরানের ওপর তীব্র আঘাত হানছেন এবং চলতি সপ্তাহের মার্কিন হামলার কথাও উল্লেখ করেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রোববার জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস ও পার্শ্ববর্তী কেশম দ্বীপের আশপাশে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই এলাকাগুলোতে এখনও পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রয়েছে।

নতুন করে শুরু হওয়া এই সহিংসতা গত মাসে স্বাক্ষরিত ওয়াশিংটন-তেহরান অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে। চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং মূল সংঘাতের অবসান ঘটানো। তবে গত সপ্তাহে ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে এই যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে। একইসঙ্গে তিনি আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে পুরো উপসাগরীয় এলাকা চরম অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। সেসময় থেকে ইরান মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে ধারাবাহিকভাবে আঘাত হেনে চলেছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আরোপিত অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।