বাংলাদেশে সংবিধানে স্বীকৃত ১৬টি মৌলিক অধিকার থাকা সত্ত্বেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে মানবাধিকারের পরিস্থিতি আশানুরূপভাবে উন্নত হয়নি। শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. আবদুল্লাহ ফারুক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত 'তৃতীয় জাতীয় মানবাধিকার অলিম্পিয়াড ২০২৬'-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এই মত প্রকাশ করেন বক্তারা। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের দূতাবাস।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত আলবার্টো জিওভেনেত্তি বলেন, এই অলিম্পিয়াড কেবল একটি প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য মানবাধিকারের গুরুত্ব বোঝা, চিন্তা করা এবং প্রশ্ন করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। তিনি আরও জানান, তরুণদের মানবাধিকার সংক্রান্ত দায়িত্ব ও অঙ্গীকার সম্পর্কে সচেতন করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের মানবাধিকার প্রসারের লক্ষ্যে সরকার, সুশীল সমাজ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে সুইজারল্যান্ড দীর্ঘকাল কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে একটি স্বাধীন, ক্ষমতায়িত এবং কার্যকর রাষ্ট্রীয় সংস্থায় রূপান্তর করার ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ড সবসময় জোরালো সমর্থন দিয়ে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত ১৬টি অধিকার লঙ্ঘিত হলে নাগরিকরা আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার আইনি সুযোগ পান। তবে তিনি গত ছয় মাসের একটি মানবাধিকার প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেন, যেখানে প্রায় ৬ হাজার ২৪৫টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ওই সময়ে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মনিরুজ্জামান স্পষ্টভাবে জানান, এই সংঘর্ষগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে নয়, বরং ছিল রাজনৈতিক প্রকৃতির।
একই অনুষ্ঠানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য অর্জনের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিপ্লবের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে আমরা এখনো পৌঁছাতে পারিনি, কারণ দেশের বিভিন্ন স্তরে এখনো ব্যাপক দুর্নীতি ও ঘুষের লেনদেন চলছে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আগে শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত রাউন্ডের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সেরা ৫০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী সকল প্রতিযোগীকে পদক ও সনদ প্রদান করা হয় এবং শীর্ষ ১০ জনকে প্রাইজমানি ও সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। বিজয়ীদের মাঝে এই পুরস্কারগুলো বিতরণ করেন সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত আলবার্টো জিওভেনেত্তি।




