রাজধানীর ভাটারা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩২ বছর বয়সী সাজ্জাদ হোসেন। শুক্রবার সকাল দশটার দিকে ১০০ ফুট সড়কে একটি প্রাইভেট কার পেছন দিক থেকে তাঁর মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে স্বজনদের উদ্যোগে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক বেলা তিনটার দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার খবর ভাটারা থানায় অবহিত করা হয়েছে।

সাজ্জাদ হোসেন মহাখালীর মধ্যপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। তিনি কুড়িল বিশ্বরোড-সংলগ্ন প্রগতি সরণিতে অবস্থিত যমুনা ফিউচার পার্কের একটি কাপড়ের দোকানে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার সকালে প্রতিদিনের মতোই মোটরসাইকেলে কর্মস্থলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন তিনি। কাজ শেষে মহাখালীর বাসায় ফেরার পথে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

চার ভাই-বোনের মধ্যে সাজ্জাদ ছিলেন পরিবারের একমাত্র পুত্র। তাঁর বাবা শাহজাহান গাজি বিমানবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। সাজ্জাদের চাচাতো ভাই আনিসুর রহমান জানান, মাত্র সাত-আট মাস আগে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তাঁর নববধূকে এখনো সাজ্জাদের বাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে আনা হয়নি। আনিসুর রহমান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, প্রতিদিনের মতোই কাজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়া সেই সকালই তাঁর জীবনের শেষ সকাল হয়ে উঠল। স্বজনদের কাছে ফিরে এলো তাঁর নিথর দেহ।