পারিবারিক গণ্ডির মধ্যে একটি তুচ্ছ ঘটনা থেকে কীভাবে একটি মর্মান্তিক পরিণতি ঘটতে পারে, বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঘটনাটি তারই একটি করুণ উদাহরণ। হাঁসের মালিকানা নিয়ে নাতির সাথে বিরোধের জেরে ইয়ারুন নেছা নামের এক বৃদ্ধা মারা গেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, উপজেলার পূর্ব ভূতেরদিয়া গ্রামে মৃত ইয়ারুল নেছা ও তার মেয়ের ছেলে মেহেদী হাসানের পরিবার পাশাপাশি বাড়িতেই বসবাস করতেন। উভয় পরিবারেরই আলাদা আলাদা হাঁস ছিল। রোববার বিকেলে ইমরান নিজের একটি হাঁস খুঁজে না পেয়ে তার নানির হাঁসটিকে নিজের বলে দাবি করে বসেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, এটাকে কেন্দ্র করেই দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইয়ারুল নেছা হাতে থাকা একটি লাঠি দিয়ে নাতিকে আঘাত করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় মেহেদী তাকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং জ্ঞান হারান। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে তাৎক্ষণাৎ সন্ধ্যায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। কিন্তু পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
নিহতের বড় ছেলে সোহরাব মাঝি এই অপ্রত্যাশিত ও মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি গণমাধ্যমের কাছে বলেছেন, "তুচ্ছ একটি বিষয় থেকে আমার মায়ের জীবনটি এভাবে শেষ হবে, তা কেউ কল্পনা করতে পারেনি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করছি।"
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনো লিখিত অভিযোগ পাননি তারা। বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে এবং প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার তা স্বজনদের নিকট হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।


