দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা ভারী বর্ষণের কারণে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের বেশ কয়েকটি স্থান পানির নিচে চলে গেছে। এর ফলে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে ওই পথে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। একটানা বৃষ্টিতে রাঙামাটির সঙ্গে খাগড়াছড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সোমবার থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি ও কেরেঙ্গেনালা এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটু পরিমাণ পানি বইছে। এসব অঞ্চলের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। তাঁরা জরুরি প্রয়োজনে পানি ডিঙিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাইসছড়ি এলাকায় সড়কটি হাঁটু থেকে কোমরপর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে। সেচের নালার স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতে পারেনি, যার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে বানের পানির মধ্যে দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। অশোক চাকমা নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা খাগড়াছড়ি থেকে রাঙামাটি যাওয়ার পথে মাইসছড়িতে আটকা পড়েছেন। তিনি জানান, জরুরি কাজে বের হয়েছিলেন কিন্তু কোনো যানবাহন না পেয়ে এখন অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন।

টানা বৃষ্টির কারণে জেলার চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন খাল ও ছড়ার পানির স্তরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ দুপুর থেকে জেলা সদর, মহালছড়ি ও দীঘিনালার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূতি চাকমা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বেলা ১টা পর্যন্ত গত ১৮ ঘণ্টায় ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়াও ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে আজ দুপুর পর্যন্ত জেলার কোথাও তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবুও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বসবাসকারী মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিরা।

জেলা সদরের শালবন, মোহাম্মদপুর, সবুজবাগ ও কুমিল্লা টিলা এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। কলাবাগান, নান্সীবাজার, মোল্লাপাড়া, কৈবল্যপিঠ, আঠারো পরিবারসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী শত শত পরিবার এখন চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। প্রশাসন এসব পরিবারকে পাহাড়ের পাদদেশ ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলেছে।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। শুকনো খাবার ও পর্যাপ্ত সুপেয় পানি মজুত রাখা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে এমন এলাকার আশপাশের স্কুলগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তৎপরতা বাড়ানো হবে।