২০৩০ সালের ভেতর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনার ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি নতুন করে ঘোষণা করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সোমবার অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা জোরদারকরণ বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেওয়া ভাষণে মন্ত্রী এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেন, সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈশ্বিক কর্মদশক ২০২১–২০৩০-এর কর্মপরিকল্পনার সাথে মিল রেখে বাংলাদেশ নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে আইনি, নীতিগত ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করছে। শেখ রবিউল আলম জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে গতি নিয়ন্ত্রণের কাঠামো সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি চিকিৎসাসেবা ত্বরান্বিতকরণ এবং বিশেষত পথচারীদের সুরক্ষার স্বার্থে মহাসড়কে লক্ষ্যভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সর্বোত্তম অনুশীলনের আলোকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে সেটি অনুমোদন ও প্রণয়নের বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর। সড়ক নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রীয় রাজনীতির একটি প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করে মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় রাজনৈতিক ইচ্ছা, কার্যকর সহযোগিতা এবং সম্মিলিত দায়িত্ববোধ একান্ত প্রয়োজন। নিরাপদ, টেকসই ও সবার জন্য উন্মুক্ত সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করার অঙ্গীকারও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
জাতিসংঘের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব প্রদান করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে আছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব জিয়াউল হক, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, এবং বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শব্বির হাসান খান।




