মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর কয়েকটি ধারা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার। সংস্থাটির মতে, শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপর ন্যস্ত করা হলে তা নিরপেক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং এতে দোষীরা পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।
গতকাল ৩ আগস্ট মন্ত্রিসভা এই আইনের খসড়া অনুমোদন করে। আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে অধিকার তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত আইনে শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, অভিযুক্ত বাহিনীর বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্ত নিরপেক্ষ হওয়ার আশা খুবই কম এবং এর ফলে বাহিনীর সদস্যরা ‘দায়মুক্তি’ ভোগ করবে।
আইনের ২১ ধারা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি। এই ধারা অনুযায়ী, তদন্তের ভিত্তিতে কোনো অভিযোগ আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর ৫ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে। অধিকারের মতে, এই বিধান বিচারহীনতার পথকে আরও প্রশস্ত করবে এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে বিপদে ফেলবে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের ঘটনায় পুলিশ জিডিও গ্রহণ করতে চাইত না। বর্তমান সরকারের আমলেও ‘মিরাজ শেখ’ নামে এক ব্যক্তি গুমের শিকার হওয়ার পর তার পরিবার জিডি করতে গেলে পুলিশ ‘গুমের’ পরিবর্তে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার অভিযোগ নিতে বাধ্য করে।
পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ২০২৫’-এ এ ধরনের ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে উত্থাপন না করায় তা বাতিল হয়ে যায়। এখন নতুন করে এই ‘দুর্বল’ আইনটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ায় ভুক্তভোগী ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা পুলিশের পরিবর্তে একটি স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অথবা একটি বিশেষ গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন গঠন করে তাদের ওপর ন্যস্ত করার আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি। একই সঙ্গে সংশোধনীগুলো অন্তর্ভুক্ত করেই আইনটি সংসদে পাস করার দাবি জানিয়েছে অধিকার।




