টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বেদুরিয়া গ্রামে সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটক একটি টাওয়ার স্থাপন করেছে। গত ১৪ মে এই টাওয়ারে ফোর-জি সংযোগ চালু করা হলে আশপাশের জালাবাদা, সাধুপাড়া, কাকড়াগুনি, বন্দরিয়া, লাংগলভাঙ্গা, জয়নাগাছা ও হরিণধরা—সাতটি গ্রামে উন্নত ইন্টারনেট সেবা পৌঁছেছে। ফলে বনাঞ্চলের দূরবর্তী এই এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী গারোর সদস্যরা এখন দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন।
মধুপুর বনাঞ্চলের গায়রা, গাছাবাড়ি, ইদিলপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে গারো সম্প্রদায়ের অনেক তরুণ-তরুণী ফ্রিল্যান্সিং পেশায় যুক্ত। তারা বিদেশি গ্রাহকদের জন্য আউটসোর্সিং কাজ করে ডলারে আয় করেন। তবে তাঁদের প্রধান বাধা ছিল ধীরগতির ইন্টারনেট সংযোগ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম আলোয় ‘ধীরগতির ইন্টারনেট নিয়েই ফ্রিল্যান্সিং করেন গারো তরুণেরা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর গায়রা গ্রামে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেয় অ্যাম্বার আইটি ও গ্রামীণফোন। কিন্তু বেদুরিয়ায় টেলিটকের টাওয়ার স্থাপনের পর তা দীর্ঘদিন সংযোগবিহীন অবস্থায় পড়ে ছিল। সর্বশেষ ১৪ মে সংযোগ চালুর মধ্য দিয়ে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে।
এই সেবা চালু হওয়ায় স্থানীয়রা স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেছেন। বেদুরিয়ার ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক ডিজাইনার রিচার্ড দফো প্রথম আলোকে বলেন, টাওয়ার থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভালো নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে। তবে ঘরের ভেতরে সিগন্যাল দুর্বল থাকে এবং বিদ্যুৎ চলে গেলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়—ব্যাকআপ ব্যাটারিতে সমস্যা থাকায়। গায়রা গ্রামের ডিজিটাল মার্কেটার জেস এন্ড্রুজ জানান, বেদুরিয়ার স্বপ্নপূরণ দেখে তারাও উচ্ছ্বসিত।
নকরেক আইটির প্রধান নির্বাহী সুবীর নকরেক প্রথম আলোকে বলেন, কানাডা থেকে ভূইয়া মাহবুব লতিফ এবং মধুপুর বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেনের প্রচেষ্টায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। দুই মাসের ব্যবধানে টাওয়ারে নেটওয়ার্ক সংযোগ দেওয়ার খবর আসে। তিনি সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন নিজ কার্যালয়ে প্রথম আলোকে বলেন, মানুষের উপকার করতে পেরে তিনি আনন্দিত। তাঁর মতে, কারও জন্য কিছু করতে পারলে এবং তা যদি মানুষকে উপকৃত করে, তবে সেই কাজ করতে ইচ্ছা করে। তিনি জানান, শুধু বন নয়, পাহাড়সহ সকল প্রত্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।




