এশিয়ার তৃতীয় সারির ক্লাব টুর্নামেন্ট এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রিলিমিনারি প্লে অফে কিরগিজস্তানের মুরাস ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ঢাকার ফর্টিস এফসি। ম্যাচের একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেছেন জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তবে গোলের পরও সে আনন্দ খুঁজে পাননি ২৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার। কারণ, তাঁর ক্যারিয়ার এখন দলবদলের বাজারের চরম অনিশ্চয়তার মাঝে পড়ে আছে।

ম্যাচের পর ইব্রাহিম জানান, কিরগিজ দলের বিপক্ষে এই জয় তাঁকে দেশের জার্সিতে খেলার অনুভূতি দিয়েছে। ফর্টিস বাংলাদেশের ক্লাব হওয়ায় এই ম্যাচকে তিনি জাতীয় দলের ম্যাচের মতোই দেখেছেন। এফসি কাপের প্রতিটি ম্যাচে ক্লাবগুলো দেশকেই প্রতিনিধিত্ব করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আবাহনী থেকে মাত্র এক মাসের জন্য ধারে ফর্টিসে খেলতে এসেছেন ইব্রাহিম। গতবার এই টুর্নামেন্টে মুরাস ইউনাইটেডের কাছে আবাহনী ২-০ গোলে হেরেছিল, সেবারও তিনি মাঠে ছিলেন। দুই ম্যাচের পার্থক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গতবার আবাহনী মাত্র একজন বিদেশি খেলোয়াড় নিয়ে খেলতে নেমেছিল এবং দলটি সেভাবে প্রস্তুত ছিল না। তবে এবার ফর্টিসে আটজন বিদেশি খেলোয়াড় থাকায় দল অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে, যার ফলেই জয় সম্ভব হয়েছে।

ফর্টিসের সঙ্গে তাঁর সংক্ষিপ্ত চুক্তির সময়কাল সম্পর্কে ইব্রাহিম বলেন, দলটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং এখানে খেলে তিনি ভালো অনুভব করেছেন। জয়সূচক গোলটি তাঁর কাছে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল, কারণ খেলোয়াড়দের বাজার এখন খুবই খারাপ। কোন দলে যাবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আবাহনী তাঁকে রাখার আশ্বাস দিলেও ফিফার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে।

আগামী ২১ আগস্ট বসুন্ধরা কিংস-আবাহনী চ্যালেঞ্জ কাপ দিয়ে নতুন মৌসুম শুরুর কথা। কিন্তু আবাহনী ফিফার নিষেধাজ্ঞা তুলতে না পারলে তাঁর ক্যারিয়ার কী হবে—এই চিন্তাই এখন সবচেয়ে বড়। ইব্রাহিমের ভাষ্যে, এই অনিশ্চয়তা শুধু তাঁর একার নয়, পরিবারের লোকজনও নতুন মৌসুমে তাঁর কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ম্যাচে গোল করার পরও তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এতটাই টেনশনে ছিলেন যে গোলের আনন্দটাই অনুভব করতে পারেননি।

আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসের ওপর ফিফার দলবদল নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলকে যে দিকে নিয়ে যাচ্ছে তা প্রসঙ্গে রূপক ব্যবহার করে ইব্রাহিম বলেন, জবাই করার পর মুরগি যেভাবে কিছুক্ষণ লাফায়, ফুটবল ঠিক সেভাবেই টিকে থাকার চেষ্টা করছে। শীর্ষ দুই ক্লাবের এই অবস্থা হলে বাকি দলগুলোর অবস্থা যে কী হবে তা সহজেই অনুমেয়। রেলিগেশনে পড়া দলগুলোকেও আবার প্রমোশন দিয়ে শীর্ষ লিগে খেলানো হচ্ছে, যা একধরনের জোড়াতালির সামিল।

ঘরোয়া ফুটবলের এই করুণ অবস্থার মধ্যে ২৩ বছর পর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার আশা বাস্তবসম্মত কি না—এমন প্রশ্নে ইব্রাহিম বলেন, জাতীয় দলের ব্যাপারটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। হামজা, শমিতদের মতো খেলোয়াড়রা দলে থাকায় সবার মধ্যে আত্মবিশ্বাস কাজ করে। জাতীয় দলের চেষ্টা ও স্বপ্ন সব সময় আলাদা।

এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বে ফর্টিসের হয়ে খেলবেন কি না তা এখনো নিশ্চিত নন ইব্রাহিম। তবে ম্যাচগুলো দলের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করেন তিনি। ২০১৫ সালে মোহামেডানের হয়ে আবাহনীর বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে প্রথম আলোচনায় আসা ইব্রাহিম কক্সবাজারের চকরিয়ার এক তরুণের জন্য সেটিকে দারুণ যাত্রা হিসেবে উল্লেখ করেন। কিন্তু ক্যারিয়ারের এত বছর পরও মৌসুম শুরুর আট দিন আগে নিজের দল না জানাটাকে তিনি সবচেয়ে বড় হতাশা হিসেবে দেখছেন।