দেশের সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে পরিচালিত এইচএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। এই অবস্থায় উদ্বেগ জানিয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে। গতকাল সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) অধিদপ্তরের পাঠানো এক চিঠিতে সব সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষদের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যমান অবকাঠামো, জনবল ও শিক্ষা উপকরণ থাকা সত্ত্বেও ভর্তি সংখ্যা আশানুরূপ নয়। ফলে সরকারি বিনিয়োগ যথাযথভাবে কাজে লাগছে না বলে মনে করছে অধিদপ্তর। এতে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ব্যাহত হচ্ছে এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সাতটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচারণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা। অভিভাবক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভা আয়োজন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ট্রেড, আধুনিক ল্যাব, কর্মসংস্থানের সুযোগ ও উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনা তুলে ধরে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর কথা বলা হয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কেব্ল টিভি, স্থানীয় গণমাধ্যম, ব্যানার ও লিফলেটের মাধ্যমেও প্রচার জোরদার করতে হবে।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল) উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এইচএসসি (ভোকেশনাল) কোর্সে ভর্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক শিক্ষককে নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির দায়বদ্ধতা দিয়ে অফিস আদেশ জারি করতে হবে। ভর্তি করা শিক্ষার্থীদের ট্রেডভিত্তিক হালনাগাদ তথ্য নির্ধারিত ছকে পূরণ করে অধিদপ্তরে পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে।

ভর্তির অগ্রগতি ও গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে প্রথম প্রতিবেদন আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে অধিদপ্তরে জমা দিতে হবে। চূড়ান্ত ভর্তির তথ্য ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।