মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেনের গুলিতে সম্প্রতি দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ার প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছেন কংগ্রেসম্যান স্কট পেটের্স। তার দৃঢ় বক্তব্য, 'আমরা এর চেয়ে ভালো আচরণ পাওনার যোগ্য।' ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে তিনি আইসিই এজেন্টদের জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা পরা ও সংস্কৃত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাধ্যতামূলক করতে চান।

এই মাসের শুরুর দিকে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুইটি পৃথক রাজ্যে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে টেক্সাসে এবং অপরটি মেইনে। উভয় ক্ষেত্রেই আইসিই এজেন্টদের গুলিতে ওই দুই ব্যক্তি প্রাণ হারান। এই নৃশংস ঘটনা দুটির পরিপ্রেক্ষিতে তদারকির মাধ্যমিক ব্যবস্থাপন জোরালো করার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

কংগ্রেসম্যান পিটার্সের প্রস্তাবিত সংস্কার পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে বল প্রয়োগের ক্ষেত্র এজেন্টরা যাতে আরও সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও মনস্তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ পান, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁর মতে, বর্তমান কর্মপদ্ধতি ও জবাবদিহিতার অভাব জনগণের আস্থা নষ্ট করছে। সেহেতু, দৃশ্য প্রমাণিক সংরক্ষণে বডি ক্যামেরা এজেন্ট ও জনসাধারণ—উভয়ের জন্যই সুরক্ষার নিশ্চয়কতা সৃষ্টি করবে।

আইসিইের অভিযান নিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক আছে। তবে সাম্প্রতিক দুটি প্রাণহানির পর সংস্থাটির তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে, ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) -এর প্রধান সম্প্রতি জানিয়েছেন, সড়কপথে অভিযান জোরদারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের মন্তব্য বিষয়টি এড়াতে চেয়েছে সংস্থাটি। কিন্তু পিটার্সের মত আইনপ্রণেতারা মনে করেন, কোনো ধরনের ছাড় না দিয়েই সম্পূর্ণ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত বডি ক্যামেরার প্রয়োগকৌশল সম্পর্কে বিক্ষিপ্ত মত থাকলেও, নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো সংস্কারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তদন্তের স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং এজেন্টরো মধ্যে ভুল প্রয়োগ কমাতে এর চেয়ে বিকল্পপন্থা নেই বলেই মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা। কংগ্রেসের এই আইনপ্রণয়নের দাবি এখন সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে বিস্তর আলোচিত হচ্ছে।